1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ওমরাহ করতে যাচ্ছিলো; প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের মা-ছেলে-মেয়ে নিহত সংবাদিকতা নির্ধারণে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন কে সাংবাদিক, কে নয় তা নির্ধারণে স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী দু’এক দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতায় সাবেক ছাত্রদল নেতা সাগরকে কুপিয়ে হত্যা ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন ১২৮ বার পেছালো সাতক্ষীরা-৪ এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে চালকের ওপর হত্যাচেষ্টার মামলা সাগর–রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১২৮ বার পেছাল দল থেকে বহিষ্কার হলে এমপি নজরুলের আসন শূন্য হবে: ইসি

বিরোধীদলীয় নেতা: গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তি সংসদকে পাশ কাটিয়ে করা চলবে না

  • আপডেটের সময় : শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান দেশের কোনো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তি বা নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় জাতীয় সংসদকে পাশ কাটিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত নয় বলে জানান। তিনি বলেন, বিদেশি রাষ্ট্রের সঙ্গে করা মৌলিক চুক্তি সংসদে উপস্থাপন হলে সেই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনআস্থা অনেক বেশি শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে তিনি বলছেন, পররাষ্ট্রনীতি হবে স্বাধীন, ভারসাম্যপূর্ণ এবং পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ওপর প্রতিষ্ঠিত—জাতীয় স্বার্থ সর্বোচ্চ প্রাধান্য পাবে।

শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিদেশ সফর সংক্রান্ত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উত্থাপিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ডা. শফিকুর বলেন, ‘‘বাংলাদেশ সবার দেশ; দেশের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি গড়ে তোলা সময়ের দাবি।’’ তিনি বিরোধী দল হিসেবে সরকারের গঠনমূলক উদ্যোগে সহযোগিতা প্রদানে প্রস্তুতির কথাও জানান।

ডা. শফিকুর বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলেন, বিদেশি দেশের সঙ্গে করা গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সমঝোতাগুলো সংসদে উপস্থাপন করা উচিত—কারণ সংসদই হওয়া উচিত রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রীয় স্থান। সংসদে আলোচনার সুযোগ থাকলে জনপ্রতিনিধিরা এসব চুক্তি পর্যালোচনা করবেন এবং সরকারের সিদ্ধান্ত-প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনগণের আস্থা বাড়বে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সফরকৃত উভয় দেশই বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু। তবু তিনি দেশের বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘‘বাংলাদেশ এখনও আমদানিনির্ভর অর্থনীতির দেশ। রপ্তানির তুলনায় আমদানির পরিমাণ অনেক বেশি থাকায় অর্থনীতিতে ভারসাম্য রক্ষা করা বড় চ্যালেঞ্জ।’’

তিনি টেকসই সমাধান হিসেবে রপ্তানির বৈচিত্র্য তোলার ওপর জোর দেন। বর্তমানে রপ্তানি প্রধানত তৈরি পোশাক ও শ্রমবাজারের ওপর নির্ভরশীল; এই নির্ভরতা কমিয়ে নতুন খাতে রপ্তানি সম্প্রসারণের বড় সুযোগ রয়েছে। এজন্য স্বল্প-মধ্য-দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

সরকারের বিদেশ সফরে এসব অর্থনৈতিক বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে এবং আলোচনায় প্রতিফলিত হয়েছে—এমন আশা প্রকাশ করেন বিরোধীদলীয় নেতা।

পররাষ্ট্রনীতির মূলভিত্তি সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট বলেন, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক হবে পারস্পরিক সম্মান, সমতা ও জাতীয় স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে। স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো বাহ্যিক হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো চুক্তি গ্রহণ করলে তা হবে উভয় পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় রেখে; নইলে দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হবে—এটি কোনোভাবে মানানসই নয়।

ডা. শফিকুর রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনেরও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘‘সরকার সব কৃতিত্ব নিয়ে নেবে এবং বিরোধী দল কেবল বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করবে—এমন মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’’ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতা থাকলে রাষ্ট্র পরিচালনা আরও কার্যকর হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার বিরোধী মতামতকে সম্মান করবে, আর বিরোধী দলও দেশের উন্নয়ন ও রাষ্ট্রগঠনে দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক ভূমিকা নেবে—এভাবেই গণতান্ত্রিক চর্চা শক্তিশালী হবে এবং জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo