বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হয়েছে। রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান জানিয়েছেন, শেষ দিনে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ৩৩টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। আগামী ৭ জুন এসব নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
তাহেরুল হক জানান, সবমিলিয়ে ৩৯টি মনোনয়নপত্র বিক্রি করা হয়েছিলো, যাদের মধ্যে ৬টি জমা পড়েনি। ক্যাটাগরি-১ (জেলা ও বিভাগ) থেকে ১৪টি, ক্যাটাগরি-২ (ক্লাব) থেকে ১৮টি এবং ক্যাটাগরি-৩ (সাবেক ক্রিকেটার ও বিভিন্ন সংস্থা) থেকে ১টি মনোনয়নপত্র জমা হয়েছে।
ক্যাটাগরি-১ থেকে মোট ১৯টি ফরম কেনা হলেও ১৪টি জমা পড়েছে। বিভাগভিত্তিক ভাগে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা থেকে প্রত্যেকে তিনটি করে, রাজশাহী, রংপুর ও সিলেট থেকে একটি করে এবং বরিশাল থেকে দুটি ফরম জমা হয়েছে। রাজশাহী থেকে মীর শাহরুল আলম সীমান্ত, রংপুর থেকে মির্জা ফয়সাল আমিন ও সিলেট থেকে কাইয়ুম চৌধুরী মনোনয়নপত্র দিয়েছেন। যাচাই-বাছাইয়ে তারা বৈধ পেলে ওই তিন অঞ্চল থেকে প্রত্যেকে একজন করে পরিচালক নির্বাচিত হবেন।
ক্যাটাগরি-৩ থেকে একমাত্র মনোনয়নপত্র দিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর। ওই ক্যাটাগরিতেও এক জনকে নির্বাচিত করা হবে।
ক্লাব ক্যাটাগরি (ক্যাটাগরি-২) থেকে ১৮ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এ ক্যাটাগরিতেই অংশ নিচ্ছেন বর্তমান সভাপতি তামিম ইকবালও।
শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়েছে—এ কথা জানিয়েও রিটার্নিং অফিসার বলেন, ‘আজ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষদিন ছিল। আমরা সারা দিন ধরে ফরম গ্রহণ করেছি।’ তিনি আরও জানান, জমা হওয়া ফরমগুলো যাচাই-বাছাই করে বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। নির্বাচনী তফসিল মোতাবেক যাচাই-বাছাই শেষে তালিকা ২৩ মে প্রকাশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তাহেরুল হক জানান, যাচাই-বাছাইয়ের সময় ২০২৪ সালে সংশোধিত বিসিবি গঠনতন্ত্র ও নির্বাচন নীতিমালা মাথায় রাখা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিভাগভিত্তিক মনোনয়নকারীদের নামও প্রকাশ করা হয়। ঢাকা থেকে সাঈদ বিন জামান, এসএম আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ ও জসিমউদ্দিন খান খোকন; খুলনা থেকে চৌধুরী শফিকুল আলম, শান্তনু ইসলাম ও মোহাম্মদ আব্দুস সালাম; চট্টগ্রাম থেকে মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, মঈনুদ্দিন চৌধুরী ও শরীফুল ইসলাম; বরিশাল থেকে মুনতাসির আলম চৌধুরী ও মিজানুর রহমান মনোনয়নপত্র জমা করেছেন।
এসময় রিটার্নিং অফিসার শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুতের মনোনয়নপত্র তোলার বিষয়েও মন্তব্য করেন। তিনি জানান, বিদ্যুৎ ফরম তুলেছিলেন, কিন্তু গঠনতন্ত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে তিনি ক্যাটাগরি-৩ থেকে পরিচালক পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্য নন, কারণ তিনি খেলোয়াড় কল্যাণ সংস্থার একজন প্রতিনিধি। ফলে তিনি কাউন্সিলর হিসেবে থাকলেও পরিচালক পদের জন্য প্রার্থী হওয়া অনুপযুক্ত। বিষয়টি বুঝেই তিনি নিজে ফরম ফেরত দিয়েছেন।