খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা) ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ বুধবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় খুলনা নগরীর খালিশপুর পোর্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের খুলনা বিভাগের উপ-পরিচালক ড. মোঃ শফিকুল ইসলাম অনুষ্ঠানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ দলগুলোকে পুরস্কার প্রদান করেন খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (শিক্ষা ও আইসিটি) সিফাত মেহনাজ। অনুষ্ঠানে শিক্ষাবিদ, জেলা ও থানা পর্যায়ের প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও এলাকার শিক্ষক-অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার সিফাত মেহনাজ বলেন, খেলাধুলা কেবল বিনোদন নয়; এটি শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আজকের কোমলমতি শিক্ষার্থীরাই দেশের ভবিষ্যত। খেলাধুলা শৃঙ্খলা, ধৈর্য্য ও দেশপ্রেম গড়ে তোলে এবং যুবসমাজকে মাদকাসক্তি, মোবাইল আসক্তি ও অপরাধমূলক কর্মকান্ড থেকে দূরে রাখতে সহায়ক।
তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকার তৃণমূল থেকে ক্রীড়াঙ্গণের উন্নয়নে সচেষ্ট রয়েছে এবং স্থানীয় পর্যায়ে নানাবিধ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে যাতে নতুন প্রজন্ম আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনতে পারে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের সহকারি পরিচালক মুঃ ফজলে রহমান এবং খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম। এছাড়া খুলনা পিটিআই-এর সুপারিন্টেন্ডেন্ট মোঃ তোজাম্মেল হোসেন, এডিপিইও মোঃ আমিনুল ইসলাম, থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ শাহজাহানসহ সহকারী থানা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারগণ, প্রধান শিক্ষক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, জি এম হুমায়ুন কবির, মুনি হোসেন, সজীব কুমার মহলী, শাহজাদী রহমান, সহকারী শিক্ষক সৈয়দ আনিসুজ্জামান, এস কে জামান, মোস্তাফিজুর রহমান, মুক্তা খানম ও হ্যাপি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
টুর্নামেন্টে বালক বিভাগে ফাইনালে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বেনিয়ালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় একাদশ সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার গণেশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় একাদশকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। বালিকা বিভাগে শ্যামনগর উপজেলার পূর্ব মীর গাঙ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় একাদশ ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার সারুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় একাদশকে ১-০ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী ও বিজয়ী শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও স্থানীয় ক্রীড়াবিকাশের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। উপস্থিতরা বিদ্যালয় পর্যায়ে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।