সরকারের বহনকরা বিশাল মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষজনের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে এবং দারিদ্র্যের হার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তবে, জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ এড়ানোর জন্য সরকার জোড়ালো চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা থেকে বিরত থাকছে।
শুক্রবার বিকেলে ফরিদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘সমতাভিত্তিক আঞ্চলিক উন্নয়ন’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, “পূর্ববর্তী সরকারের ভুল নীতির কারণে সৃষ্টি হওয়া মূল্যস্ফীতির কারণে পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে ওঠার ঝুঁকি রয়েছে। এর ফলে নিম্নবিত্ত ও অতি দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “বৈরী অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সত্ত্বেও কৃষক ও সাধারণ মানুষের জন্য চিন্তা করে বর্তমান সরকার জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম সমন্বয় বা বৃদ্ধির পরিকল্পনা করেনি। জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা থেকে এই কৃচ্ছ্রসাধন চালু রাখা হয়েছে।”
অর্থ উপদেষ্টা অতীতের উদাহরণ টেনে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যুদ্ধবিধ্বস্ত ও দুর্ভিক্ষগ্রস্ত অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করেছিলেন, সেই পথেই বর্তমানে চলছেন সরকার। তিনি জানান, সংকটকালে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ এর মতো কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কৃষক, খামারি ও মাছচাষীদের স্বার্থ সুরক্ষায় একটি সর্বজনীন কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে নারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে।
নির্বাচনী ইশতেহারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে উপদেষ্টা বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত এই সরকার মূল লক্ষ্য হিসেবে আঞ্চলিক সমতা ও উন্নয়নের দিকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। আগে কোনো রাজনৈতিক দল এই ধরনের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে পারেনি। রংপুর ও রাজশাহীর পর ফরিদপুরেও এই উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
ইশতেহারের পাঁচটি মূল স্তম্ভের মধ্যে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রব্যবস্থার পুনরুদ্ধার, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, রাষ্ট্রের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন এবং সমাজের জন্য একটি নতুন মানদণ্ড তৈরি এখানে গুরুত্বপূর্ণ।