1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:১১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে মার্কিন চুক্তিই জ্বালানি আমদানের বড় বাধা: ড. দেবপ্রিয় সার্ক পুনরুজ্জীবিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য: পররাষ্ট্রমন্ত্রী অন্তর্বর্তী সরকারের মার্কিন চুক্তি: হরমুজ প্রণালির চেয়ে বড় বাধা আইএমএফের ঋণ স্থগিতের খবর নাকচ করল সরকার প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ: হামের টিকা না দেওয়া ছিল পূর্ববর্তী সরকারের অপরাধ প্রতিবন্ধী যুবককে মারধরের সালিসে চাচাকেও পিটিয়ে হত্যা: সংঘর্ষের জেরে উত্তেজনা বিদ্যুতের দাম না বাড়ানো জনগণের দায়বদ্ধতা: অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ প্রধানের বাড়ির সামনে বিক্ষোব, পিএস জনি নন্দী পুলিশ হেফাজতে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করলেন চলতি বছরের হজ ফ্লাইট কার্যক্রম জুমার খুতবা চলাকালে মসজিদে লুটিয়ে পড়ে মুসল্লির মৃত্যু

প্রবাসী আয়ে রিজার্ভ ছাড়াল ৩৫ বিলিয়ন ডলার

  • আপডেটের সময় : শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

গত মার্চে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) ঢুকে এ প্রবাহ চলতি এপ্রিলেও ইতিবাচক রয়েছে। তার প্রভাবেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক আবার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনতে শুরু করেছে—ফলশ্রুতিতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভ বেড়ে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের ঘর ছাড়িয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের মোট (গ্রোস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসাবপদ্ধতিতে হিসাব করলে রিজার্ভটি ৩০ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার। এক মাস আগের তুলনায়—১৬ মার্চে—মোট রিজার্ভ ছিল ৩৪ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার এবং বিপিএম-৬ অনুযায়ী ২৯ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার; ফলে এক মাসে রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার।

তবে সম্পূর্ণ রিজার্ভ অর্থনীতির জন্য ব্যবহারযোগ্য হয় না। স্বল্পমেয়াদি দায়-দেনা ও কিছু নির্দিষ্ট হিসাব বাদ দিলে যে নিট বা ‘ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ’ থাকে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংক অভ্যন্তরীণভাবে এই ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ নির্ণয় করে থাকে; আইএমএফের এসডিআর, ব্যাংকগুলোর বৈদেশিক মুদ্রা ক্লিয়ারিং অ্যাকাউন্ট এবং আকুর বিলের মতো কিছু খাত সেখানে বাদ দেওয়া হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্রে জানা গেছে বর্তমানে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলার।

প্রতি মাসে গড়ে ৫ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় ধরা হলে এই রিজার্ভ দিয়ে প্রায় পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। সাধারণভাবে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয়ের সমপরিমাণ রিজার্ভকে নিরাপদ ধরা হয়। অতীতে চাপে পড়ে paggamitযোগ্য রিজার্ভ ১৪ বিলিয়ন ডলারের নীচে নেমে গিয়েছিল; তখন বৈদেশিক ঋণ ও বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার সংগ্রহ করে পরিস্থিতি সামাল দিতে কষ্ট করা হয়েছিল।

২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বতী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর রিজার্ভ থেকে বিক্রি করা ডলার সীমিত করেছেন। পাশাপাশি হুন্ডি ও অর্থপাচার ঠেকাতে, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে ও বিভিন্ন উৎস থেকে ডলার সরবরাহ বাড়াতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হলে রিজার্ভ ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হতে শুরু করে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, প্রবাসী আয় বাড়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বেড়েছে এবং রিজার্ভ শক্তিশালী হচ্ছে। বাজারে ভারসাম্য রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনছে; তাই রিজার্ভের অবস্থান ভালো। তিনি আরও বলেন, ডলারের দর অতিরিক্ত কমে গেলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তাই পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ঐতিহাসিকভাবে দেশের রিজার্ভ সর্বোচ্চ ছিল ২০২১ সালের আগস্টে, তখন প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলার ছুঁয়েছিল—সেই সময়ে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ছিল ৮৪ টাকা ২০ পয়সা। পরবর্তীতে ঋণ-অনিয়ম ও অর্থপাচারসহ নানা কারণে রিজার্ভে চাপ পড়ে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় রিজার্ভ নেমে আসে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে; আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী তখন তা ছিল ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা দেখা দেয় এবং ডলারের দাম ১২০ টাকার ওপরে উঠে যায়, তখন আমদানিতে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।

পরবর্তীতে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালু ও রেমিট্যান্স বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার ফলে প্রবাসী আয় বাড়তে শুরু করে এবং আমদানির ওপর বিধিনিষেধ ধাপে ধাপে শিথিল হয়—এসব মিলিয়ে রিজার্ভ পুনরুদ্ধারে সহায়তা করেছে।

পতাকা তথ্য অনুযায়ী চলতি এপ্রিলের প্রথম ১৫ দিনে দেশে এসেছে ১৭৯ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি; গত বছর ওই সময় এসেছিল ১৪৭ কোটি ডলার। গত কয়েক মাস ধরে রেমিট্যান্সে ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রয়েছে—মার্চে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা একক মাস হিসেবে দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগে ফেব্রুয়ারি ছিল ৩০২ কোটি, জানুয়ারি ৩১৭ কোটি এবং ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার।

রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ডলারের সরবরাহ সংগ্রহ করছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৫৬১ কোটি ডলার কিনেছে; এর ফলে রিজার্ভের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।

একই সময়ে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল–ইরান সংক্রান্ত উত্তেজনার কারণে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা রয়েছে। এসব আলোচনায় রিজার্ভে ইতিবাচক বৃদ্ধিকে সংশ্লিষ্টরা স্বস্তিদায়ক হিসেবে দেখছেন।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo