1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৬:২৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
নাসির ও তামিমার মামলার রায় ঘোষণার দিন—১০ জুন চীন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায় জুনের মধ্যেই মাঠ থেকে সব সেনা প্রত্যাহার, ব্যারাকেই ফিরবে সদস্যরা নাসির-তামিমা মামলার রায় ঘোষণা ১০ জুন সরকারি বিভাগের ধীরগতি বিনিয়োগে প্রধান প্রতিবন্ধকতা: মির্জা ফখরুল মদনে শিশুধর্ষণ ও ন্যূনতম অন্তঃসত্ত্বা অভিযোগ: শিক্ষকে গৌরিপুর থেকে গ্রেপ্তার গরুর হাটে চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না: প্রতিমন্ত্রীর কড়া বার্তা এপ্রিল মাসে সড়ক, নৌ ও রেল দুর্ঘটনায় ৪৩৪ জনের মৃত্যু সেনাপ্রধানের মতে, দেশের ইতিহাসে এত সুন্দর নির্বাচন আগে হয়নি এনসিপির নুসরাত তাবাসসুম শপথ নিলেন ত্রয়োদশ সংসদে সংসদ সদস্য হিসেবে

চাঁদাবাজদের জন্য ‘কমপ্লিট লাল কার্ড’ ঘোষণা জামায়াত আমিরের

  • আপডেটের সময় : রবিবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে এখন ‘চাঁদাবাজি’ নামক এক নিকৃষ্ট পেশার জন্ম হয়েছে এবং তাদের জন্য তাঁর পক্ষ থেকে ‘কমপ্লিট লাল কার্ড’ থাকবে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ‘আমরা কারো সন্তানকে চাঁদাবাজি করতে দেব না। যারা এই পথ বেছে নিয়েছেন, তারা ফিরে আসুন; না হলে বিচারকে মুখোমুখি হতে হবে।’

রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫ নির্বাচনী আসনের উদ্যোগে আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আগামী ১২ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের আগে আয়োজিত এই সমাবেশে তিনি বক্তব্য দেন।

বক্তব্যের শুরুতেই ডা. শফিকুর রহমান গত জুলাই আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। এক সম্মাননা স্মারক তিনি এক শহীদের বোনের হাতে তুলে দিয়ে বলেন, ‘এই সম্মান আমার প্রাপ্য নয়; এটি সেই শহীদদের প্রাপ্য যারা জালিমের সামনে বুক পেতে দাঁড়িয়েছিল।’

যুব সমাজকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘‘আমরা যুবকদের হাতে ‘বেকার ভাতা’ তুলে দিয়ে তাদের অলস করে রাখতে চাই না। তাদেরকে দক্ষ কারিগরে পরিণত করতে হবে, যাতে তারা দেশের গঠনকারী শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।’’ তিনি আরও বলেন, সাধারণ শিক্ষা, আলিয়া বা কউমি—এই সব মাধ্যমেই কর্মমুখী ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় বিশেষ গুরুত্বারোপ করে আমির বলেন, ‘আমাদের মা-বোনদের ইজ্জত আমাদের জীবনের চেয়েও মূল্যবান। তাদের কর্মক্ষেত্রে ও যাতায়াতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে হবে।’ তিনি বলেন, শহরগুলোর ব্যস্ত সময়গুলোতে শুধুমাত্র মহিলাদের জন্য বিশেষ ইভনিং বাস সার্ভিস চালু করা হবে এবং সরকারি বাসের নিচতলাটি মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হবে।

নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন ও সেবা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি ব্যবহার করার ঘোষণা দেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা দুটি অ্যাপস চালু করবো—একটির মাধ্যমে চাঁদাবাজদের গোপনে চিহ্নিত করা যাবে, আর অন্যটির মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সরাসরি তাদের সমস্যা জানাতে পারবে।’ এছাড়া নির্বাচিত হলে জনপ্রতিনিধিদের প্রতি ছয় মাসে একবার সরাসরি জনগণের সামনে হাজির হয়ে তাদের প্রশ্নের উত্তর ও সম্পদের হিসাব দিতে হবে বলেও তিনি জানান।

ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫ আসনের জলাবদ্ধতা ও নদী দূষণ নিয়ে তিনি কঠোর এক হুঁশিয়ারি দেন। বলেন, ‘যদি আমরা দেশ পরিচালনার সুযোগ পাই, তাহলে ওই এলাকার এমপি, মেয়র ও কাউন্সিলরদের বছরে চারবার সেই দূষিত নদীর পানিতে গোসল করানো হবে। যখন তারা নিজে ওই পানিতে নামবেন, তখনই নদী পরিষ্কার রাখতে তাদের বাধ্য করা সম্ভব হবে।’

জুলাই আন্দোলনের শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দাবি করে তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের গণহত্যাকারীদের ক্ষমা নেই। জুলাইয়ের চেতনা এখনও জাগ্রত। কেউ যদি নির্বাচনের ফলাফল নেওয়ার পরে অন্যভাবে বদলানোর চেষ্টা করে, তবে ছাত্র-জনতা তা রুখে দেবে।’ প্রশাসনকে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব থেকে বিরত থেকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বানও করেন তিনি।

বৃহৎ এই জনসভায় ১০ দলীয় জোটের স্থানীয় নেতারা, শহীদ পরিবারগুলোর সদস্য এবং সাধারণ মানুষের বিশাল সমাগম ছিল। সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান ভোটারদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগামী ১২ তারিখ ‘ইনসাফ ও আজাদির’ পক্ষে রায় দেবেন—এভাবেই শেষ করে তিনি তাঁর বক্তব্য।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo