1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ১০:২৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
জুনের মধ্যেই মাঠ থেকে সব সেনা প্রত্যাহার, ব্যারাকেই ফিরবে সদস্যরা নাসির-তামিমা মামলার রায় ঘোষণা ১০ জুন সরকারি বিভাগের ধীরগতি বিনিয়োগে প্রধান প্রতিবন্ধকতা: মির্জা ফখরুল মদনে শিশুধর্ষণ ও ন্যূনতম অন্তঃসত্ত্বা অভিযোগ: শিক্ষকে গৌরিপুর থেকে গ্রেপ্তার গরুর হাটে চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না: প্রতিমন্ত্রীর কড়া বার্তা এপ্রিল মাসে সড়ক, নৌ ও রেল দুর্ঘটনায় ৪৩৪ জনের মৃত্যু সেনাপ্রধানের মতে, দেশের ইতিহাসে এত সুন্দর নির্বাচন আগে হয়নি এনসিপির নুসরাত তাবাসসুম শপথ নিলেন ত্রয়োদশ সংসদে সংসদ সদস্য হিসেবে শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞ: সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল রাজসাক্ষী হতে চান ঈদুল আজহা: ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রির সময়সূচি ঘোষণা

ইসলামী ব্যাংকে কর্মী ছাঁটাই: ২০০ জন চাকুরিচ্যুত, ৪৯৭১ জন ওএসডি

  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৫

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ সম্প্রতি একটি ব্যাপক কর্মচারী ছাঁটাই ঘোষণা করেছে। শৃঙ্খলা ও নিয়মনীতি লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০০ জন কর্মীকে সরাসরি চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে, পাশাপাশি আরও ৪ হাজার ৯৭১ জনকে ওএসডি (অন সার্ভিস ডিউটি) হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ওএসডি হওয়া এ কর্মীরা এখনও বেতন-ভাতা পাচ্ছেন, তবে তারা বর্তমানে কোনও দায়িত্বে থাকবেন না। এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংকের অভ্যন্তরে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।

ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা জানাতো, ২০১৭ সালে চট্টগ্রামের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এস আলমের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার পর থেকে অখাদ্য নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হয়। তখন লিখিত পরীক্ষার পরিবর্তে সরাসরি সিভি দেখে বেশ সংখ্যক কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়, যার বেশির ভাগই ছিল চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকার বাসিন্দা। এর ফলে বর্তমানে ব্যাংকের প্রায় অর্ধেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর মূল নিবাস এই অঞ্চল।

একজন সিনিয়র ব্যাংক কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, “এস আলম গ্রুপের সময়ে অযোগ্য লোকজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়, যা ব্যাংকের জন্য ক্ষতিকর হয়ে পড়েছিল। এখন আমরা সবাইকে যোগ্যতা যাচাইয়ের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা ও হাইকোর্টের রায় অনুসারে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর এই পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য ৫,৩৮৫ জন কর্মকর্তাকে আহ্বান জানানো হলেও মাত্র ৪১৪ জন অংশগ্রহণ করেন। বাকি ৪, সুপ্রিমাম ৪,৯৭১ জনকে পরদিন থেকেই ওএসডি ঘোষণা করা হয়। এর পাশাপাশি, পরীক্ষার আয়োজনকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও গণপ্রতিবেদনে বিরোধিতা করার জন্যও ২০০ কর্মীকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

ওএসডি হওয়া ওই কর্মীদের অভিযোগ, তারা হাইকোর্টে রিট করার পর আদালত নিয়মিত প্রমোশনাল পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সে নির্দেশ উপেক্ষা করে আলাদা যোগ্যতা যাচাইয়ের পরীক্ষা আয়োজন করে, যা বেআইনি। তারা এখন আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “এ ধরনের ছাঁটাই সাধারণত দেশে এই প্রথম। সাধারণত পদোন্নতির জন্য ভিএবাই নেওয়া হয়, তবে কর্মীদের মান যাচাইয়ের এই পদ্ধতি নতুন।” তিনি আরও বলেন, “ইসলামী ব্যাংক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, তাই নিয়োগ বা কর্মীদের মূল্যায়ন সম্পূর্ণ তাদের এখতিয়ার। তবে এটি অবশ্যই দেশের আইন ও নীতিমালার মধ্যে থাকতে হবে।”

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা সময়ে ব্যাংক থেকে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়, যা ব্যাংকটির জন্য গভীর আর্থিক সংকটের কারণ হয়। ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পরিবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণাধীন পদক্ষেপ গ্রহণ করে, যার মাধ্যমে এস আলমের প্রভাব দূর করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo