রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামীর জেলা ও মহানগর কর্মপরিষদ সদস্যদের অংশগ্রহণে তিন দিনব্যাপী শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়ে শনিবার (৪ জুলাই) সমাপ্ত হয়েছে। শিবির শুরু হয় গত ২ জুলাই এবং সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলীয় আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
সমাপনী বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের ইতিবাচক ও টেকসই পরিবর্তন আনার জন্য সৎ, যোগ্য ও সমাজে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তোলা জরুরি। তিনি ব্যক্তিগত সততা, নৈতিকতা, জবাবদিহিতা এবং সমাজের গ্রহণযোগ্যতাকেই কার্যকর নেতৃত্বের মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
শিবিরে কেন্দ্রীয় নেতারা ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানের পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ড. মাওলানা ছামিউল হক ফারুকী। বক্তব্য দেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম ও অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা।
ডা. শফিকুর রহমান উপমহাদেশের মুসলমানদের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, বহু ঐতিহাসিক আন্দোলনে মুসলিমরা নেতৃত্ব দিয়েছে এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আটষট্টি বছরের পথচলায় অসংখ্য নেতাকর্মী ত্যাগ, কোরবানি ও আত্মোৎসর্গ করেছেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আল্লাহর পথে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাদের সেই অবদান জাতির কল্যাণে কাজে লাগবে।
নিজের বক্তৃতায় তিনি দলের কর্মীদের আল্লাহকে একনিষ্ঠতা ও ইখলাসের সঙ্গে স্মরণ করার দিকেও গুরুত্বারোপ করেন এবং বলেন, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, নীতি-নৈতিকতা এবং আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার চেতনাই সংগঠনটিকে শক্তিশালী করেছে। একই সঙ্গে সতর্ক করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম কোনো এক ক্ষুদ্র ভুলের কারণে ক্ষুণ্ন হতে পারে।
ডা. শফিকুর রহমান উপমহাদেশের বিভিন্ন দেশে মুসলমানদের বর্তমান পরিস্থিতিরও কথা তুলে ধরে বলেন, ভারতের মুসলমানরা নিরাপত্তা, জীবন-জমি ও সম্মানের সঙ্কটে রয়েছে এবং ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের মুসলমানরাও নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন।
তিনি সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতাকে জামায়াতের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং বলেন, মুসলমানরা সার্বজনীন গোষ্ঠী হওয়া সত্ত্বেও অনেকসময় তাদের সাম্প্রদায়িকভাবে আখ্যায়িত করা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনসহ বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর ৯০ জন প্রতিনিধি সংসদে রয়েছেন এবং জনগণ দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যাশায় দলটির প্রতি আস্থা রেখেছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, ক্ষমতা লাভের চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টিই রাজনীতির ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। আত্মশুদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়ে নিজের ভেতরের নেতিবাচক প্রবণতাগুলো দমন করার আহ্বান জানান তিনি।
আল্লাহর কিতাব ও মহানবীর সুন্নাহ মেনে চললে মানুষ পথভ্রষ্ট হবে না বলে মন্তব্য করে ডা. শফিকুর রহমান পরিবার, সংগঠন ও সমাজকে শক্তিশালী করতে নারী-পুরুষের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর জোর দেন। তিনি নারীদের সম্মান বজায় রাখার পাশাপাশি ধর্মীয় কাজে তাদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান।
স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমাজের সৎ, মানবিক, হালালভাবে উপার্জনকারী, গ্রহণযোগ্য ও নেতৃত্বদানে সক্ষম ব্যক্তিদের প্রার্থী হিসেবে বেছে নিতে হবে। যোগ্যতার উপর ভিত্তি করে সবাইকে মূল্যায়নের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
বক্তব্যের শেষে ডা. শফিকুর রহমান কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্যদের নিজেদের দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আমীরদের সহযোগিতা ও পরামর্শ জারি রাখার অনুরোধ জানান।