অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশটি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে ধাপে ধাপে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে। তিনি এই মন্তব্য করেন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার পর শনিবার (৪ জুলাই) প্রথমবারের মতো নিজ শহর চট্টগ্রামে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়।
মন্ত্রী জানান, সরকারের মূল লক্ষ্য দেশের অর্থনীতিকে আরও মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো। তিনি বলেছেন, আগামী দুই বছরে অর্থনৈতিক সক্ষমতা আরও বাড়াতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা হচ্ছে।
চট্টগ্রামের গুরুত্ব নিয়ে আলাপচারিতায় মন্ত্রী বলেন, এখানে বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। ভবিষ্যতে চট্টগ্রামকে দেশের প্রধান লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে—যা রপ্তানি, আইনানুগ লজিস্টিক ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্যান্সেন্ট্রেশনের মাধ্যমে অর্থনীতিকে ত্বরান্বিত করবে।
তিনি আরও জানান, চলতি বাজেটে চট্টগ্রামভিত্তিক লজিস্টিক অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আনোয়ারা অঞ্চলে প্রায় ৬০০ একর জমিতে একটি ফ্রি ট্রেড জোন (এফটিজেড) স্থাপনের পরিকল্পনাও সরকারের তালিকায় আছে।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীকরণ করে একটি অর্থনৈতিক করিডোর গড়ে তোলা এবং চীনের অংশগ্রহণে একটি অর্থনৈতিক হাব গড়ার উদ্যোগও বাস্তবায়ন করার কথা মন্ত্রী উল্লেখ করেন। একই সাথে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কাস্টমস-সমৃদ্ধ কার্গো ও লজিস্টিক হাব হিসেবে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছেন।
এপ্রিলে জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আগে বলেছেন, বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা। সে সময় তিনি লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ণ, সৃজনশীল অর্থনীতি ও ক্রীড়া অর্থনীতি উন্নয়নের ওপর জোর দেয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন।
অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার চলমান প্রক্রিয়ার ফলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে। তার ভাষ্য, এই ধারাবাহিক উন্নয়ন এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতির ফলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বিনিয়োগের একটি প্রধান গন্তব্যে পরিণত হবে।
সরকারি পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন ও অভ্যন্তরীণ-বহির্বিশ্বে বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, দেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে ট্রিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যের দিকে আরো কাছাকাছি পৌঁছাবে।