বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা ও মহানগর কর্মপরিষদ সদস্যদের অংশগ্রহণে রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে তিন দিনব্যাপী শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়। ২ জুলাই শুরু হওয়া শিবিরটি শনিবার (৪ জুলাই) সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশ ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সৎ, যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে। তিনি ব্যক্তিগত সততা, নৈতিকতা, জবাবদিহিতা এবং সমাজে গ্রহণযোগ্যতা কে নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ গুণ হিসেবে গুরুত্ব দেন।
শিবিরের সঞ্চালনায় ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ড. মাওলানা ছামিউল হক ফারুকী। ধারাবাহিক বক্তব্য রেখেছেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা।
ডা. শফিকুর রহমান বক্তব্যে বলেন, উপমহাদেশে মুসলিমরা ইতিহাসে বিভিন্ন আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৮৬ বছরের পথচলায় অসংখ্য নেতাকর্মী ত্যাগ—কোরবানি ও আত্মত্যাগ করেছেন; তাদের এই অবদান জাতির কল্যাণে কাজে লাগবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আল্লাহর স্মরণে একনিষ্ঠতা ও ইখলাস বজায় রাখার আহ্বান জানান। সংগঠনের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, নীতি-নৈতিকতা ও আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার চেতনা দলকে শক্তিশালী করেছে, কিন্তু দীর্ঘদিন করা সুনামও একটি ছোট ভুলে ক্ষুণ্ন হতে পারে—এমন সতর্কতামূলক বার্তাও তিনি দেন।
বক্তব্যে তিনি উপমহাদেশের বিভিন্ন দেশে মুসলমানদের বর্তমান পরিস্থিতির প্রতি সতর্কতা জানান। ভারতের মুসলমানরা নিরাপত্তা, জান-মাল ও সম্মানের ঝুঁকির মুখে পড়েছে এবং ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরেও মুসলমানরা নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছেন—এমন মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. শফিকুর বলেন, সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ও সমাজিক প্রতিবন্ধকতা জামায়াতের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, মুসলমানরা সার্বজনীন জনগোষ্ঠী সত্ত্বেও অনেক সময় সাম্প্রদায়িক হিসেবে আখ্যায়িত হন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, সংরক্ষিত নারী আসনসহ জামায়াতে ইসলামীর ৯০ জন প্রতিনিধি বর্তমানে সংসদে রয়েছেন এবং জনগণ দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যাশায় দলটির প্রতি আস্থা রেখেছে।
ডা. শফিকুর মন্তব্য করেন, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন — ক্ষমতা অর্জন নয়। তিনি আত্মশুদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করে ব্যক্তির ভেতরের নেতিবাচক প্রবণতা দমন করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, আল্লাহর কিতাব ও মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করলে মানুষ পথভ্রষ্ট হয় না। পরিবার, সংগঠন ও সমাজকে শক্তিশালী করতে নারীর ও পুরুষের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন এবং নারীদের সম্মানজনকভাবে দ্বীনি কাজে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান।
স্থানীয় নির্বাচনকে কড়াভাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমাজের সৎ, মানবিক, হালাল উপার্জনকারী, গ্রহণযোগ্য ও নেতৃত্বদানে সক্ষম ব্যক্তিকেই প্রার্থী হিসেবে বেছে নিতে হবে। একজন ব্যক্তিকে মূল্যায়ন করা উচিত তার যোগ্যতার ভিত্তিতে, নির্বিশেষে সে কোন স্তরের কর্মী।
বক্তব্যের শেষাংশে ডা. শফিকুর কর্মপরিষদের সদস্যদের নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আমীরদের সহযোগিতা ও পরামর্শ দেয়ার প্রতি জোর দেন।