রাজধানীর মগবাজারে আল ফালাহ মিলনায়তনে জেলায় ও মহানগর স্তরের কর্মপরিষদ সদস্যদের অংশগ্রহণে তিন দিনব্যাপী শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার (৪ জুলাই) সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে গত ২ জুলাই শুরু হওয়া এই শিবির সমাপ্ত হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশ ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সৎ, যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হবে। তিনি ব্যক্তিগত সততা, নৈতিকতা, জবাবদিহিতা এবং সমাজে গ্রহণযোগ্যতাকে নেতৃত্বের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপন করেন।
শিবিরে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা ছামিউল হক ফারুকীর সঞ্চালনায় দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ধারাবাহিক আলোচনা করেন। বক্তৃতা করেন সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম এবং অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের প্রমুখ।
ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে জানান, উপমহাদেশে মুসলমানরা বহু ঐতিহাসিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দীর্ঘ সত্তর-আশি বছরের পথচলায় অসংখ্য নেতাকর্মী ত্যাগ ও আত্মোৎসর্গ করেছেন। আল্লাহর পথে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের অবদান জাতির কল্যাণে কাজে লাগবে—এটাই তার প্রত্যাশা।
তিনি নেতা-সম্মেলনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আল্লাহর স্মরণে একনিষ্ঠতা ও ইখলাস বজায় রাখা প্রয়োজন। সংগঠনের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, নীতি-নৈতিকতা ও আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার চেতনা জামায়াতকে দৃঢ় করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি, তবে সতর্ক করে দেন যে দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম একটি অল্প ভুলেই ক্ষুণ্ন হতে পারে।
উপমহাদেশের মুসলমানদের বর্তমান চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ভারতের মুসলমানরা নিরাপত্তা, আত্মসম্মান ও জীবনযাত্রার ঝুঁকির মুখে রয়েছেন; পাশাপাশি ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের মুসলমানরাও নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। জামায়াতের সামনে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি এবং সামাজিক প্রতিবন্ধকতাকেও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি এবং বলেন, মুসলমানরা সার্বজনীন গোষ্ঠী হওয়া সত্ত্বেও বহুবার তাদের সাম্প্রদায়িক মর্যাদা দিয়ে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, সংরক্ষিত নারী আসনসহ জামায়াতে ইসলামীর ৯০ জন প্রতিনিধি বর্তমানে সংসদে রয়েছেন এবং জনগণের দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যাশা থেকেই দলটির প্রতি আস্থা রয়েছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ক্ষমতা নয়—বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। সেই সঙ্গে ব্যক্তিগত ও সংগঠনিক আত্মশুদ্ধির ওপর জোর দেন এবং নেতিবাচক প্রবণতা দমন করার আহ্বান জানান।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, কোরআন ও মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ আঁকড়ে ধরলে মানুষ পথভ্রষ্ট হয় না। পরিবার, সংগঠন ও সমাজকে শক্তিশালী করতে নারী-পুরুষের সম্মিলিত ভূমিকার গুরুত্ব উদ্ভাসিত করে তিনি নারীদের সম্মান ও দ্বীনি কাজে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান।
স্থানীয় নির্বাচন সংক্রান্ত মন্তব্যে তিনি বলেন, সমাজের সৎ, মানবিক, হালাল উপার্জনকারী ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের প্রার্থী হিসেবে বেছে নেওয়া উচিত। কোনো ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে তার যোগ্যতাকে প্রধান্য দিতে হবে বলে তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তব্য শেষে ডা. শফিকুর রহমান কর্মপরিষদের সদস্যদের তাদের দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আমীরদের সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।