1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
সংসদে পাস ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’—১৮৬৭ সালের নিম্নগামী আইন বাতিল ৪ বছরে পদ্মা সেতু থেকে টোল আদায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা এজলাসে আঙুল উঁচিয়ে পুলিশকে শাসালেন ইনু: ‘এই হাত ধরবেন না, ভদ্রতা শিখুন’ বিএনপি সরকারের সিদ্ধান্তের প্রস্তাব: নতুন তিন উপজেলা ও এক থানা গঠন নিয়ে নিকার বৈঠক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর ১০% থেকে কমিয়ে ৫% করার প্রস্তাব তিস্তা প্রকল্পে ভারতের উদ্বেগের জবাবে চীন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর ১০% থেকে ৫%-এ নামানোর প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী আইএমএফ-এর সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছে: অর্থমন্ত্রী অতীত নয়, ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে চাই: প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর ১০% থেকে ৫% করার প্রস্তাব জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

ভেনেজুয়েলায় নিহত বেড়ে ১,৭১৯; উদ্ধার কাজ এখন ভাগ্যের ওপর

  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

ভেনেজুয়েলায় গত সপ্তাহে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পের পরও উদ্ধারকাজ পূর্ণগতিতে শুরু হয়নি, ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা বহু মানুষের জীবিত উদ্ধার হওয়া আজ অনেকটাই ভাগ্যের ওপর নির্ভর করে উঠেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এবং আন্তর্জাতিক’agence’র প্রতিবেদনগুলোতে এমনই চিত্র দেখা গেছে।

উত্তরাঞ্চলের লা গুয়াইরা রাজ্যে বুধবার মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে প্রায় ৮০০টি ভবন ধসে পড়ে এবং লাখো মানুষ কার্যত অর্ধনগ্ন অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে বলা যাবে না—হাজার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ। সোমবার ভোরেও একটি পরাঘাত (আফটারশক) অনুভূত হয়েছে; দুর্ভাগ্যবশত সে ঘটনায় নতুন কোনো বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ ভূমিকম্পকে ভেনেজুয়েলার ইতিহাসের ‘‘সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ’’ বলে অভিহিত করেছেন। বার্তাসংস্থা এএফপি বলছে, এতদূর পর্যন্ত প্রাণহানি ১,৭১৯ জনে পৌঁছেছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে আন্তর্জাতিক সহায়তা সত্ত্বেও গুরুত্বপূর্ণ সময় পার হয়ে যাওয়ায় জীবিতদের উদ্ধারের আশা ক্রমেই ক্ষীণ হচ্ছে।

রাস্তায় ভেনেজুয়েলার পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতি থাকলেও উদ্ধারকাজে তাদের অংশগ্রহণ সীমিত দেখা গেছে। অনেক এলাকায় উদ্ধারকাজের বড় অংশই স্থানীয় বাসিন্দাদের কাঁধে পড়ে—তারা শাবল, হাতুড়ি ও কোদাল দিয়ে প্রতিবেশী ও স্বজন খুঁটিয়ে বের করার চেষ্টা করছেন। কারাকাসের পশ্চিমে পাহাড়ি এলাকা এল জুনকুইতোতে রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা বাসিন্দারা বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের খুব কমই দেখা গেছে; তাই কৃষক ও সাধারণ মানুষের দেওয়া খাদ্য ও অন্যান্য সরঞ্জামই এখন দুর্যোগে পড়াদের একমাত্র ভরসা।

অল্প আলো ও সময় ব্যয়ে কত প্রাণ বাঁচবে—সেই লড়াই চলছেই। উদ্ধারকর্মীরা এক উদাহরণ দিয়েছেন: ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় আটকে থাকার পর এক ২১ বছর বয়সী যুবককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু এমন কাহিনি এখন স্বতন্ত্র বর্ণনায় রয়ে যাচ্ছে; মোটর তৎপরতার অভাব, রাস্তা-পরিবহন যন্ত্রণাসহ নানা কারণে দ্রুত সহায়তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

জাতিসংঘের আবাসিক মানবিক সমন্বয়কারী জিয়ানলুকা রামপোলা দেল তিনদারো জানান, ভূমিকম্পের পর ৫০০টিরও বেশি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। অন্তত ২,৫০০টির মতো স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার অনেকগুলো সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়েছে। জাতিসংঘ উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে ১০ হাজার মৃতদেহ সংরক্ষণের ব্যাগ সংগ্রহ করছে—এটি ইঙ্গিত করছে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

রাস্তাঘাটে নিরাপত্তা ও মানুষের পুনর্বাসনকে সহজ করতে সরকার রঙভিত্তিক সংকেত পদ্ধতি গ্রহণের কথা বলেছে। প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, এতে নির্ধারণ করা হবে কারা কোনো বাড়িতে ফিরতে পারবেন। ইতোমধ্যে বাস্তুচ্যুতদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়শিবির স্থাপন করা হচ্ছে এবং আড়াই হাজারেরও বেশি জরুরি কর্মী, পুলিশ ও সেনাসদস্য তৎপরতা শুরু করেছেন বলে সরকারের দাবি।

তবে রাস্তায় ও বিভিন্ন এলাকায় সহযোগিতা পৌঁছে যাওয়া জেনেসহ নানা চ্যালেঞ্জ অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে মানুষ উদ্ধারের গতি ততটা ত্বরান্বিত হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছলেও সময় নষ্ট হওয়ায় জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা কমছে—এমন বাস্তবতা এখন ভেনেজুয়েলার মানুষের সামনের সবচেয়ে বড় সঙ্কট। সূত্র: বিবিসি, এএফপি, রয়টার্স ও জাতিসংঘ

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo