1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
সংসদে পাস ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’—১৮৬৭ সালের নিম্নগামী আইন বাতিল ৪ বছরে পদ্মা সেতু থেকে টোল আদায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা এজলাসে আঙুল উঁচিয়ে পুলিশকে শাসালেন ইনু: ‘এই হাত ধরবেন না, ভদ্রতা শিখুন’ বিএনপি সরকারের সিদ্ধান্তের প্রস্তাব: নতুন তিন উপজেলা ও এক থানা গঠন নিয়ে নিকার বৈঠক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর ১০% থেকে কমিয়ে ৫% করার প্রস্তাব তিস্তা প্রকল্পে ভারতের উদ্বেগের জবাবে চীন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর ১০% থেকে ৫%-এ নামানোর প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী আইএমএফ-এর সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছে: অর্থমন্ত্রী অতীত নয়, ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে চাই: প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর ১০% থেকে ৫% করার প্রস্তাব জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

ঋণ লক্ষ্য কমিয়ে, নীতি সুদ অচল রেখে ২০২৬–২৭-এর প্রথমার্ধের মুদ্রানীতি ঘোষণা

  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধ (জুলাই–ডিসেম্বর) জন্য নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। এতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নামানো হয়েছে এবং নীতিগত সুদহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন। মুদ্রানীতির বিস্তারিত উপস্থাপন করেন ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান। এটি বর্তমান সরকারের সময়ে গভর্নরের প্রথম মুদ্রানীতি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক বৃদ্ধির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে নিয়মিত মুদ্রানীতি প্রকাশ করে। মুদ্রানীতির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অভ্যন্তরীণ ঋণ, মুদ্রা সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ ও বাইরের সম্পদ বাড়ানো বা কমানোর রূপরেখা নির্ধারণ করে। বাংলাদেশ ব্যাংক বছরে দুইবার (জানুয়ারি–জুন ও জুলাই–ডিসেম্বর জন্য) মনিটারি পলিসি স্টেটমেন্ট জারি করে।

নতুন নীতিতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রেখে গড় মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামানো উদ্দেশ্য হিসেবে রাখা হয়েছে। তবে বর্তমানে দ্রব্যমূল্যগত চাপ লক্ষ্যের তুলনায় প্রায় দুই শতাংশ বেশি। মে মাসে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মাথাপিছু মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছিল ৯.৪২ শতাংশ; এর মধ্যে খাদ্যমূল্যস্ফীতি ৯.০৬ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯.৭১ শতাংশ।

এছাড়া সাময়িক হিসাব অনুযায়ী ২০২৫–২৬ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি আদান প্রদান করা হয়েছে প্রায় ৪.১৪ শতাংশ, যা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো প্রকাশ করেছে। গত ১১ জুন প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারের লক্ষ্য ছিল গড় মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশ এবং ৬.৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সেই লক্ষ্যের সঙ্গে সংগতি রেখে মুদ্রানীতি নির্ধারণ করেছে।

রেপো (প্রধান নীতি সুদ) শীর্ষগতিতে গত ২২ অক্টোবর ২০২৪ সালে ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছিল। চলতি বছরের পূর্ববর্তী মুদ্রানীতিতে আন্তঃব্যাংক ধার এবং ব্যাঙ্কগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রাখা তহবিলের সুদহার সম্পর্কেও পরিবর্তন আনা হয়েছিল—স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) ১১.৫০ শতাংশ এবং স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭.৫ শতাংশ করা হয়েছিল। নতুন মুদ্রানীতিতে এসব সুদহার অপরিবর্তিত থাকবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে।

বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে গত মেয়াদে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল বেশি হলেও তা পূরণ হয়নি। ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত আগের পরিকল্পনায় ৮ শতাংশ লক্ষ্য স্থির ছিল, কিন্তু চলতি বছরের মে মাসে বেসরকারি খাতে ঋণের বাস্তব প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৫ শতাংশে। এই পরিস্থিতিতে আগামী ছয় মাসের জন্য বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে করা হয়েছে—ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬.৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থির লক্ষ্যকে সামনে রেখে সামান্য বাড়ানো হলেও এটি আগের লক্ষ্যের চেয়ে কম।

অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ (ডোমেস্টিক) ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য রাখা হয়েছে ১০.৫ শতাংশ। নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূলত মূল্যস্ফীতি দমন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ভাঙন না পড়ার লক্ষ্য একসঙ্গে সামলাতে চেয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo