মহারাষ্ট্রের পুনেতে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী কেতন আগারওয়াল (২৬) হত্যাকাণ্ডে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশ বলছে, কেতনের বাগদত্তা সিয়া গোয়াল (২০) বিয়ের শপিং ও প্রস্তুতির অজুহাতে কেতনের কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি রুপি নিয়েছিলেন। অভিযোগ আছে, পরে সেই পুরো টাকা তিনি তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধুরীকে (২২) হাতে তুলে দেন।
পুলিশের তদন্ত থেকে জানা গেছে, কেতন ও সিয়ার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। বিয়ের প্রস্তুতির জন্য কেতন সিয়াকে বিপুল অর্থ দিয়েছেন, তবে সিয়াই তা ব্যবহার না করে চেতনের ব্যবসা ও ক্যারিয়ার গড়ার কাজে ওই অর্থটি সরিয়ে দেন। তদন্তকারীরা মনে করেন আর্থিক ভাবে দুর্বল পরিবার থেকে হওয়ায় চেতন সিয়াকে জানিয়েছিলেন নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে তিন বছরের বেশি সময় লাগবে। এ কারণেই তারা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করেন—কেতনকে কোনো সন্দেহ না হওয়ার জন্য সিয়া তিন বছর বা তার বেশি সময় অবিবাহিত থাকবেন এবং পরে চেতন যখন আর্থিকভাবে স্থিতিশীল হবেন, তখন তারা বিয়ে করবেন।
পুলিশের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (২৯ জুন) এনডিটিভি রিপোর্ট করেছে, কেবা অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিয়া ও চেতনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের অনুসারে, আগে থেকেই পরিকল্পনা করে ১৮ জুন পুনের লোহাগড় দুর্গ এলাকায় কেতনকে একটি পাহাড়ি খাদে ফেলে হত্যা করা হয়। হত্যার সময় একটি সংকেত ঠিক করা হয়েছিল—সিয়া পানি খাওয়ার অজুহাতে বা জুতার ফিতা বাঁধার ছলে বসে পড়বেন, সেটিই ছিল চেতনের আক্রমণের সংকেত। এ কৌশল নেয়া হয়েছিল যাতে কেতনকে ধাক্কা দেওয়ার সময় সিয়া নিরাপদ দূরত্বে থাকেন এবং দুর্ঘটনাবশত তিনিও খাদে না পড়ে যান।
তদন্তে আরও ধরা পড়েছে, ঘটনার মাত্র ৩৪ মিনিট আগে সিয়া ও চেতনের মধ্যে একটি গোপন ফোনালাপ হয়। পুলিশ কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ করে সেই আলাপকে হত্যার চূড়ান্ত সমন্বয়ের অংশ হিসেবে দেখছে। সূত্রের খবর, পরিকল্পনাটি মে মাসের শেষের দিকে চূড়ান্ত করা হয়েছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, ১৪ জুনও কেতনকে খাদে ফেলে হত্যার একটি চেষ্টার তথ্য ছিল; সেদিন কেতন একটি ঝোপ আঁকড়ে ধরে বাঁচতে সক্ষম হন। পরবর্তী সময়ে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বা সাপ দেখা বলেও মিথ্যে সাজানো হয়েছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পুলিশ এখন এই ষড়যন্ত্রের আর্থিক টার্নও ও প্রযুক্তিগত দিকগুলো খতিয়ে দেখছে—টাকা লেনদেনের উৎস, সিডিআর বিশ্লেষণ এবং পরিকল্পনার সময়রেখা যাচাই করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত এগিয়ে চলেছে এবং প্রয়োজনীয় পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।