ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার গোপাল ইউনিয়নে জোবায়ের হোসেন পারভেজ নামের এক যুবলীগ কর্মীর গলা ও হাত বিচ্ছিন্ন মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৭ জুন) সকালে ইউনিয়নের নুর আহাম্মদ মাস্টারবাড়ির সামনে থেকে মরদেহটি পাওয়া যায়।
স্থানীয়রা পুলিশকে জানান, পারভেজকে হত্যা করেছে দুজন—দোকান নিয়ে বিরোধের জেরে ছাত্রলীগ কর্মী মামুনুর রশিদ (মামুন) ও শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগ।
পুলিশ, নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গণ-অভ্যুত্থানের পর দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় পারভেজ ও মামুন দীর্ঘদিন একই কারাগারে ছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, সেই সময় পারভেজ বিভিন্ন আদালতীয় ব্যয় বহন করেছেন, কিন্তু মামুন তা করেননি। জামিনে মুক্তির পর স্থানীয় একটি দোকানকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ তীব্র হয়।
ঘটনার একটি সূত্রে বলা হয়, শুক্রবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বাড়ির সামনে দু’জনের মধ্যে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে পারভেজ হাতে থাকা একটি লাইট দিয়ে মামুনের মাথায় আঘাত করেন। পরে দুই পক্ষের আত্মীয়রা বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করে।
নিহতের বাবা আবু তাহের জানান, তিনি শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে সর্বশেষ ছেলেকে দেখেন। সকালে স্থানীয়রা বাড়ির সামনে তার ছেলের গলা ও হাত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে জানিয়েছে।
পারভেজের পরিবারের অভিযোগ, দোকান বিরোধের জেরেই শাহাদাত হোসেন ও মামুনুর রশিদ মামুন পারভেজকে হত্যা করেছেন। পুলিশ এই অভিযোগও তদন্ত করছে।
ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের জানিয়েছেন, পারভেজ ও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে এবং তারা সাম্প্রতিককালে একই কারাগারে ছিলেন। জামিনে মুক্তির পর তাদের মধ্যে বিরোধ বাড়ার কারণে প্রাথমিকভাবেই হত্যাকাণ্ড সেই বিবাদের সঙ্গে জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার সকল দিক তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হবে।
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহজনকদের চিহ্নিত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।