ফুটবলের সৌন্দর্য এবার আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠছে। ধর্ম, ভাষা কিংবা দেশসীমানার সীমারেখা অতিক্রম করে বিশ্বকে একত্রিত করার ক্ষমতা দেখিয়ে যাচ্ছে আসন্ন ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ। এই মহাযজ্ঞে ইতিহাসে নতুন এক দিগন্তে পৌঁছানোর পথে মুসলিম বিশ্ব এবার তার সর্বোচ্চ সংখ্যক অংশগ্রহণের সম্মান অর্জন করছে। এশিয়া ও আফ্রিকা থেকে সমানভাবে ছয়টি করে দেশ এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে। তবে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা থেকে কোনো মুসলিম-প্রভাবিত দেশ অংশ নিচ্ছে না। এটি কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিক থেকেই নয়, মুসলিম ফুটবল ক্রীড়াবিদ ও দলের জন্য এর বাড়তে থাকা প্রভাবের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। এশিয়া বা আরব দেশগুলো ছাড়াও মরক্কো, আলজেরিয়া, তুরস্ক, ইরান, কাতার, জর্ডান, সেনেগাল, ইজিপ্ট, ইরাক, তিউনিসিয়া, উজবেকিস্তানসহ অন্যান্য মুসলিম দেশগুলো এই তালিকায় থাকছে। অনেক দল দীর্ঘদিন পরে বিশ্বকাপে ফিরছে, আবার কেউ প্রথমবারের মতো এই মহাযজ্ঞে অংশ নিচ্ছে। খেলোয়ারদের পাশাপাশি কোচিং স্টাফেও মুসলিম কোচের উপস্থিতি লক্ষ্যণীয়। অন্তত চারটি দেশের দায়িত্বে থাকবেন মুসলিম কোচ। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা মুসলিম ফুটবল তারকারা নিজেদের দলের জন্য মাঠে ঝড় তুলবেন। ফুটবল ধর্মের সীমানা ছাড়িয়ে মানুষকে এক করে রাখে, এই সত্যতা আরও একবার প্রমাণিত হবে এই আসরে। ২০২৬ বিশ্বকাপ মুসলিম ফুটবল ভক্তদের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক। এই বড় মঞ্চে ভালো পারফরম্যান্স না করলে তা শুধুমাত্র দেশের জন্য নয়, পুরো মুসলিম বিশ্বকে গর্বে ভরিয়ে তুলবে।