প্রথম ইনিংসে যদি আমরা চার শর বেশি রান করতে পারি, সেটি দলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হবে। বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এই পরিকল্পনা এবং প্রত্যাশার কথা প্রথম দিন শেষে ব্যক্ত করেছিলেন, যা এখন বাস্তবে পরিণত হতে দেখা যাচ্ছে। মিরপুরের শের-ই বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম দিন শেষে স্বাগতিকরা ৩০১ রানে চার উইকেট হারিয়েছে। দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা আশা করছেন আরও কিছু রান যোগ হবে, বিশেষ করে ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তা এবং ধৈর্য্য দেখাতে হবে। এই রান ইনিংসের মূল ব্যক্তিত্ব হিসেবে থাকছেন বাঁহাতি ব্যাটার শান্ত, যিনি দুর্দান্তভাবে ব্যাটিং করে এক করে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন। অন্যদিকে, ব্যর্থতার স্মৃতি ও আক্ষেপের ছায়ায় আছেন মুমিনুল হক, যিনি খুব কাছ থেকে সেঞ্চুরির দেখা পেলেও শেষ মুহূর্তে ৯১ রানেই ফিরতে হয় তাকে। আজকের দিনের শেষ আলোতেও বাংলাদেশের জন্য সুসংবাদ রইল, কারণ তারা চার উইকেটের বিনিময়ে ৩০১ রান সংগ্রহ করে দিনের খেলা শেষ করেছেন। তারা এখনও আশা করছেন, আগামী দিন আরও ভালো কিছু করতে পারবেন। ম্যাচের শুরুতেই স্বাগতিক দল কিছুটা অপ্রত্যাশিতই শুরু করেছিল, ইনিংসের প্রথম ভাগে ওপেনাররা যথেষ্ট সুবিধা কাজে লাগাতে পারেননি। মাহমুদুল হাসান জয় প্রথমেই জীবন পেয়েছিলেন, কিন্তু সেটি কাজে লাগাতে পারেননি, আউট হন ১৯ বলে ৮ রান করে। অন্যদিকে, সাদমান ইসলামও খুব বেশিক্ষণ থাকেননি। ৩০ রানে ডানহাতি পেসার হাসান আলীর বোলিংয়ে আউট হয়ে যান। এরপর, তিন নম্বর ব্যাটার মুমিনুল এবং চতুর্থ ব্যাটার শান্ত দ্রুতই দলের ধাক্কা সামলেছেন। দিন শুরু থেকেই তারা খেলছিলেন ধৈর্য্য সহকারে, উইকেটের জটিলতাকে মোকাবেলা করে। প্রথম সেশনে ১০১ রান তুলতে সক্ষম হন তারা। লাঞ্চের পর শান্ত হাফ সেঞ্চুরির কাছাকাছি পৌঁছে যান, ৭১ বলে ৫১ রান করে। এর পর আরও দ্রুত রান করে যান শান্ত, যার মধ্যে ছিল সুন্দর কভার ড্রাইভ ও বাউন্ডারি। ১২৯ বলে শান্ত সেঞ্চুরি সম্পন্ন করে, যা তার তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি। তিনি এখন পর্যন্ত পাঁচটি হাফ সেঞ্চুরি করেছে, এবং এই সেঞ্চুরির মাধ্যমে তার মোট টেস্ট সেঞ্চুরির সংখ্যা দাঁড়ালো নয়। তবে, দুর্ভাগ্যজনকভাবে, শান্তের প্রথম দিনের ইনিংসটি ১০১ রানে শেষ হয়ে গেছে, কারণ আব্বাসের ডেলিভারিতে তিনি লেগ বিফ বলে আউট হন – যদিও আম্পায়ার আউট দেননি, তবে রিভিউয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ককে আউট বলে ঘোষণা করতে হয়। মুমিনুলের সঙ্গে তার ১৭০ রানের জুটি ভেঙে যায়। এরপর, মুমিনুলের আউটের জন্য সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়, কারণ হালকা লেগ সাইডে বল গিয়ে পড়ে। ৯১ রানে থাকা মুমিনুলের শেষ রক্ষা হয়নি। তার শেষ পর্যন্ত ২০০ বলের মধ্যে ৯১ রান করেন। মুশফিক অপরাজিত থাকছেন ৪৮ রানে, আর লিটন দাস আছেন ৮ রানে। বাংলাদেশের দ্বিতীয় দিন শুরু হবে এই জুটি নিয়ে, তারা আরও কিছু রান যোগ করতে আগ্রহী। সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের জন্য এটি একটি রঙিন দিন, যেখানে ধৈর্য্য, পরিকল্পনা ও সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে তারা প্রতিপক্ষের মুখে হার বসাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।