1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ঢাকা থেকে ৭ বিভাগীয় শহরের বাসভাড়া বেড়েছে — নতুন ভাড়া কত হয়েছে? ২০২৫ সালে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় দেড় কোটিরও বেশি মানুষ বিচার বিভাগের দুর্নীতির সব শিকড় উচ্ছেদ করতে চাই: আইনমন্ত্রী জ্বালানি সমন্বয়ে ঢাকা থেকে ৭ বিভাগীয় শহরের বাসভাড়া কত বেড়েছে জ্বালানি দামের বাড়তি প্রভাব মূল্যস্ফীতিতে বড় থাকবে না: বাণিজ্যমন্ত্রী লোডশেডিংয়ে জনান্তর: সংসদে সরকারের আন্তরিক দুঃখপ্রকাশ গরু ব্যবসায় দ্বন্দ্বে ছাত্রদল নেতা খুন, যুবদল কর্মী রগ কেটে আহত নাট্যকর্মী তনু হত্যায় সাবেক সেনা হাফিজুরুর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ৭ দিন ধরে নিখোঁজ লোডশেডিংয়ে মানুষের কষ্টে সংসদে সরকারের দুঃখ প্রকাশ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র জাহাজ জব্দে সাগরে উত্তেজনা, নতুন ‘জাহাজ যুদ্ধ’ বিষয়ে শঙ্কা

  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত জলসীমায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি জাহাজ জব্দের ঘটনা আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে অতিরিক্ত উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ওমান সাগর থেকে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দ করার কয়েক দিনের মধ্যেই ওয়াশিংটনও পালটা পদক্ষেপ হিসেবে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করে, যেগুলোতে গণনায় প্রায় ৩৮ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল থাকার দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনার পর অনেকেই এটিকে ‘জাহাজ যুদ্ধের’ নতুন অধ্যায় বলে অভিহিত করছেন।

কি ঘটেছে — সংক্ষেপে

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দুইটি জাহাজ জব্দ করেছে — ‘এমএসসি ফ্রান্সেসকা’ ও ‘এপামিনন্ডাস’। কর্তৃপক্ষ বলেছে, এসব জাহাজকে তাদের উপকূলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর কয়েক দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে যে তারা সমুদ্রে থাকা দুটি ট্যাংকার হেফাজতে নিয়েছে যেগুলোতে ইরানি তেল ছিল। এই দাবিগুলো এখনো কূটনৈতিক তথা আন্তর্জাতিক পরিপ্রেক্ষিতে তর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

জাহাজ ও ক্রু সম্পর্কে জানা তথ্য

এপামিনন্ডাস: লাইবেরিয়ার পতাকা বহনকারী এবং গ্রিক মালিকানাধীন এই জাহাজে মোট ২১ জন ক্রু আছেন। গ্রিক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, ক্রুদের মধ্যে ইউক্রেনীয় ও ফিলিপিনো নাগরিক রয়েছেন এবং জাহাজটি ভারতের কোনো বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিল।

এমএসসি ফ্রান্সেসকা: পানামার পতাকা বহনকারী এই জাহাজের মালিক বিশ্বের বৃহত্তম শিপিং কোম্পানি মেডিটেরেনিয়ান শিপিং কোম্পানি (এমএসসি)। জানা গেছে, ক্যাপ্টেনসহ তিনজন নাবিক মন্টেনেগ্রোর এবং অন্তত দুজন ক্রু ক্রোয়েশিয়ার নাগরিক। এমএসসি অন্যান্য ক্রুদের পরিচয় প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক জানিয়েছে।

সব সংশ্লিষ্ট দেশের (গ্রিস, ক্রোয়েশিয়া, মন্টেনেগ্রো) সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যেসব ক্রু চিহ্নিত করা গেছে তারা নিরাপদ রয়েছেন। তেহরান ও সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসগুলোর মধ্যে মুক্তির বিষয়ে আলোচনা চলছে, কিন্তু এখনো কোন চূড়ান্ত সাফল্য চোখে পড়ছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ ও হুঁশিয়ারি

এই ঘটনার জবাবে ওয়াশিংটন কড়া অবস্থান নিয়েছে এবং বলেছে যে তারা সমুদ্রে থাকা কিছু ট্যাংকার হেফাজতে নিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা অভিযোগ করছেন, ওই ট্যাংকারগুলোতে ইরানি উৎসের বিশাল পরিমাণ তেল ছিল। পাশাপাশি মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের সিদ্ধান্তে সমুদ্রে আটকে থাকা ইরানি তেলের ওপর যে স্বল্পমেয়াদি ছাড় বা অনুমোদন ছিল তা আর নবায়ন করা হবে না — ফলে কয়েক দিনের মধ্যেই ওই তেলের ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

মার্কিন নেতৃস্থানীয় কর্মকর্তারা তৃতীয় পক্ষের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন: তারা বলেছেন, যারা ইরান থেকে তেল ক্রয় করলে তাদের বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা হতে পারে। কিছু বিশ্লেষক এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘গ্রেট প্রেশার’ কৌশলের ধারাবাহিকতা হিসেবেই দেখছেন।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও বিশ্লেষক মতামত

জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা এবং পূর্বের নজির বিশ্লেষণ করলে বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই তেলের ভবিষ্যৎ কোথাও বড় বন্দরে খালাস হয়ে যেতে পারে—কখনও কখনও তা যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলে পর্যন্ত চালান হতে দেখা গেছে। গত ডিসেম্বরে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সংক্রান্ত একটি ঘটনার কারণে টেক্সাসের হিউস্টন বন্দরে তেল বাজেয়াপ্ত করার ঘটনাও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রভাব

আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্য ও শিপিং বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরীয় রুটে জাহাজ জব্দের এই পাল্টাপাল্টি রাজনীতি বিশ্বস্ত সরবরাহ চেইনে বড় ধরণের ব্যাঘাত ডেকে আনতে পারে। বিমা কোম্পানিগুলো ঝুঁকি মূল্যায়ন করে নৌবিমার প্রিমিয়াম বাড়াতে পারে, ফলে বাণিজ্যিক জাহাজ চালানোর খরচ বেড়ে যাবে। জাহাজগুলো নিজেদের পথ পরিবর্তন করলে পণ্য ভারত ও দক্ষিণ এশিয়া এবং ইউরোপে পৌঁছাতে দেরি হবে — যার প্রভাব সরাসরি ভোক্তা মূল্যে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

কূটনৈতিক সমাধানের প্রয়োজন

বর্তমান উত্তেজনা কূটনীতি ও সমঝোতার মাধ্যমে সামাল না দিলে সামুদ্রিক বণিকিং ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা আরও ঝুঁকিতে পড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা ভাবছেন। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোকে দ্রুত কূটনৈতিক চ্যানেলে বসে সমস্যা নিরসনে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে, নাহলে সামুদ্রিক বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo