পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধান আসিম মুনির যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে জানিয়েছেন ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা শুরু করতে ইরানের বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ বড় বাধা তৈরি করেছে। এ কথা সোমবার পাকিস্তানের একটি নিরাপত্তা সূত্রকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।
টেলিফোনালাপে মুনির ট্রাম্পকে বলেন, ইরানের বিভিন্ন বন্দরগুলোতে চলমান অবরোধই পুনরায় সংলাপ শুরু করার পথে প্রধান প্রতিবন্ধকতা। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে এসব অবরোধের প্রভাব সম্পর্কে জানিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি করার অনুরোধ জানান।
সূত্র জানিয়েছে, ট্রাম্প মুনিরের কথাগুলো গ্রহণ করে এ বিষয়ে বিবেচনা করবেন বলে উত্তর দিয়েছেন। একই সময়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—না, মাধ্যমিকভাবে—শেখ শেহবাজ শোরিফই (Shehbaz Sharif) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের কাছে একটি প্রতিনিধি দল পাঠানোর অনুরোধ করেছে। তবে পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, অবরোধ প্রত্যাহার না করা হলে ইরান কোনো প্রতিনিধি দল পাঠাবে না।
ঘটনাচক্রে, ওমান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র বা আগ্রাসনের দাবি ওঠার পর ইরানের সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছে। রোববার ইরানের পতাকাবাহী তুসকা নামের একটি কার্গো জাহাজ আব্বাস বন্দর অভিমুখে যাচ্ছিল বলে এবং মার্কিন বাহিনী পরে ওই জাহাজে গুলি চালিয়ে সেটি জব্দ করার দাবি করেছে।
ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র বলেছেন, তুসকা জাহাজে ক্রু ও তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থাকায় সামরিক বাহিনী তখন সংযত ছিল। তারা জানিয়েছেন, ক্রুদের নিরাপদ অবস্থায় পৌঁছে দেওয়ার পর প্রয়োজন হলে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই সব ঘটনার প্রেক্ষিতে পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নীতি চূড়ান্তভাবে কী প্রভাব ফেলবে, তা নজরে রাখা হচ্ছে। বিষয়গুলো সম্পর্কে আরো তথ্য-তথ্যসূত্র সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ চলছে।
সূত্র: রয়টার্স।