1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০৭:৫৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
দুদক কমিশনার নিয়োগের জন্য পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন কাফরুলে চলন্ত মোটরসাইকেলে ইটের আঘাতে রাফির মৃত্যু গেজেটে ঘোষণা: এক বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ (২৫ মে–২৫ মে) জিয়াউল আহসানের দেহরক্ষী ইমরুল কায়েসের দাবি: ১৫০–২০০ জনকে হত্যা করতে দেখা ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগ: বহিষ্কৃত শিবির নেতা জিসান ২ দিনের রিমান্ডে বগুড়ায় শিশু রিফাত হত্যা: পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড ধানমন্ডিতে ১০ তলা থেকে পড়ে গৃহকর্মীর মৃত্যু; পাউবো প্রকৌশলী দম্পতি দুই দিনের রিমান্ডে সিলেটের ডিসি মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার, জনপ্রশাসনে সংযুক্ত দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান উজানের পাহাড়ি ঢলে ফুলে ফেঁপে উঠেছে তিস্তা নদী

আন্দোলন শুরু হয়েছে, সফলতা আনার প্রস্তুতি চলছে: জামায়াত আমির

  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে সত্যিকার অর্থে আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই আন্দোলনকে ধীরে ধীরে সফলতার পথে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। এই কথাগুলো তিনি সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট (আইইডিবি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার সংকটের মুখোমুখি বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই এক ছোট গল্পের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। গল্পে তিনি দড়ি টানা পাখার উদাহরণ দিয়ে বলেন, একজন বিচারক একটি হত্যা মামলার রায় দিলেন, কিন্তু তার রায়ে একদিকে পরস্পরবিরোধী কথা থাকায় পরিস্থিতি অন্ধকারে ঢাকা হয়। পরে জানা যায়, পেছন থেকে দড়ি টানার কারণে এই বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এই গল্পের মাধ্যমে তিনি বুঝাতে চান, দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সিদ্ধান্তের পেছনে অদৃশ্য ও অন্তর্ধানশীল শক্তি কাজ করছে।

তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশে, বিশেষ করে সংসদে যারা আসীন রয়েছেন, তাদের মধ্যে কে দড়ি টানে? দড়ি কোথা থেকে টানা হয়? এর জবাব জনগণই দেবে। জামায়াতের আমির সরকারের দ্বৈত নীতির কড়া সমালোচনা করে বলেন, একদিকে গণভোট হারাম, অন্যদিকে হালাল; গণভোটের ব্যাখ্যাও দ্বৈত। তার ভাষায়, কখনও অর্ডারের গোস্ত হারাম, আবার কখনও হালাল। তিনি সংসদে এই বিষয়ে বারবার আলোচনা করেছেন, কিন্তু তাদের কণ্ঠ রুদ্ধ করতে চেষ্টাও করা হয়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের রায়ের জন্য তিনি ও তার দল সব কিছু ত্যাগ করতে প্রস্তুত।

তিনি বর্তমান সংসদকেও ‘জুলাই প্রোডাক্ট’ বলে আখ্যায়িত করেন এবং বলেন, ‘জুলাই নেই, তবে আমরা আছি; জুলাই আছে, তবে সরকার ও বিরোধী দল রয়েছে। এই জুলাইয়ের বিরুদ্ধে অভিমতই চূড়ান্ত, এবং দেশের পুনরুদ্ধার নিশ্চিত। যেহেতু গণভোটের মাধ্যমে জনগণের ইচ্ছা পূরণ হবে, বাংলাদেশে এই দিনের জন্য জীবন দেওয়ার জন্যও তিনি প্রস্তুত।’

নিজেদের সংসদে ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি জানান, তারা এর আগে থেকেই বলেছিলেন যে তারা সুবিধা নেওয়ার জন্য যাচ্ছে না। তারা বাধ্য হয়েই কিছু সুবিধা নেবে, তবে অবৈধ কোনোTHING করবে না। নীতিতে অটল থাকবেন বলে দৃঢ়তা প্রকাশ করেন।

প্রসঙ্গত, তিনি বলেন, এই গণআন্দোলন শুধু শিক্ষিত ছাত্র বা রাজনীতিবিদদের উদ্যোগ নয়, এর পেছনে রয়েছে শ্রমিক, যুবক ও সাধারণ মানুষ। তিনি ব্যক্তিগতভাবে অনেক শহীদ পরিবারের বাড়িতে গিয়ে দেখেছেন, তাদের মধ্যে ৬২ শতাংশই শ্রমিক। এই আন্দোলন মূলত ফ্যাসিবাদ, বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে; পরিবর্তনের স্বপ্ন আর সাম্যের জন্য রাস্তায় নামছিল তারা।

সেমিনারে বক্তব্য রাখেন, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (বাংলাদেশ) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ, আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানসহ আরও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মোহাম্মদ মনির। তিনি উল্লেখ করে বলেন, আন্দোলনের শুরু আসলে জনগণের রায়ের ভিত্তিতে। সরকার ও সংসদের অশুভ নীতিগুলোর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য এই আন্দোলনের কোন বিকল্প নেই। তিনি আরও বলেন, এই সংগ্রাম ক্ষমতার ভাগ ভাগের জন্য নয়, বরং গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের স্বার্থে।

তিনি জনগণকে আহ্বান জানান, আসুন সবাই একযোগে এই আন্দোলনে অংশ নিন, কারণ এটি দেশের ভাগ্য পরিবর্তনের মূল চাবিকাঠি। তিনি আরও বলেন, এই আন্দোলন শক্তিশালী হলে, দেশের স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক চেতনা আবার ফিরে আসবে এবং ফ্যাসিবাদ ও অন্ধকারের আওয়াজ বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি সাহস ও ধৈর্যের সাথে এই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য সকলের প্রতি পক্ষে আহ্বান জানান।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo