নাহিদ ইসলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ, মন্তব্য করেছেন যে ক্ষমতার ঘূর্ণিতে মোহবিষ্ট হয়ে বিএনপি দেশের জনগণের কথা ভুলে গেছে। তিনি এ কথা বলেছেন আজ শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আমাদের দেশের ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে, শ্রমিকেরা রক্ত দিয়ে এই দেশের স্বাধীনতা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছেন। ১৯৪৭ সালের আজাদির সংগ্রাম থেকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন গণঅভ্যুত্থানে শ্রমজীবী মানুষের অবদান রয়েছে। এই শ্রমিকরাই দেশের মূল শক্তি এবং যারা এই দেশের নাগরিকত্বের জন্য প্রাণ দিয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষমতাসীন বিএনপি দলটি জাতির রক্তের ওপর দিন দিন ক্ষমতায় আসছে। একজন নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকেই তারা শ্রমিকদের রক্তের মূল্যকে অস্বীকার করে বেইমানি করেছে। গণভোটের রায় ও গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তকে জুলুমের মাধ্যমে উপেক্ষা করা হচ্ছে। তিনি বলে যান, এই সরকার গণবিরোধী এবং ক্ষমতার মোহে দেশ ও দেশের শ্রমিকদের স্বার্থ মূল্যহীন হয়ে পড়েছে।
নাহিদ ইসলাম আরো বলেন, অবাধ ও উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্নকে সামনে রেখে বিএনপি ও বর্তমান সরকারের বিভিন্ন অঙ্গীকার ভঙ্গ করছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এই পরিস্থিতিতে ক্রমবর্ধমান আন্দোলন গড়ে তুলে শ্রমিকের অধিকার ও সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। গণসংহতি ও আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের দাবিগুলো প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা নতুন জাতীয় ঐক্যে আবির্ভূত হয়েছি, যেখানে ১৯৭১ সালের গণঅভ্যুত্থানে শ্রমিকদের যে প্রতিশ্রুতি ছিল, তা শুন্য হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকব না। আমরা চাই এক বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে, সব ক্ষেত্রে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে, শ্রমিকের হিস্যার জন্য নতুন বন্দোবস্ত তৈরি করতে। এই লক্ষ্য নিয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব।’
নাহিদ আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, জাতীয় নাগরিক পার্টি, এবং জাতীয় শ্রমিক শক্তি সেই ঐক্যের পথে আছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জবাবদিহির আওতায় আনতে শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দেশের নেতৃত্ব দিতে হবে, গণআন্দোলনের মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে বাধ্য করতে হবে যেন জুলাই সনদ, গণভোট এবং শ্রমিকের সমস্ত দাবিগুলো পূরণ হয়।’
শেষে তিনি রাজপথের প্রস্তুতিও নিতে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘শুধু সংসদ নয়, এখন থেকে রাজপথেও প্রস্তুতি নিতে হবে। গণআন্দোলনের মাধ্যমেই আমরা বর্তমান সরকারের নীতিকে পরিবর্তন করতে পারব এবং শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করতে পারব। এই আন্দোলন দেশের মূল ধারাকে শক্তিশালী করবে এবং নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে সহায়তা করবে।’