1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ওমরাহ করতে যাচ্ছিলো; প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের মা-ছেলে-মেয়ে নিহত সংবাদিকতা নির্ধারণে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন কে সাংবাদিক, কে নয় তা নির্ধারণে স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী দু’এক দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতায় সাবেক ছাত্রদল নেতা সাগরকে কুপিয়ে হত্যা ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন ১২৮ বার পেছালো সাতক্ষীরা-৪ এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে চালকের ওপর হত্যাচেষ্টার মামলা সাগর–রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১২৮ বার পেছাল দল থেকে বহিষ্কার হলে এমপি নজরুলের আসন শূন্য হবে: ইসি

জাতীয় পার্টির বিপর্যয়: খাতাই খুলতে পারেনি দলটি

  • আপডেটের সময় : শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

প্রতিষ্ঠার পর থেকে চার দশকের এক বিস্ময়কর মাইলফলক হিসেবে দেশের সংসদ নির্বাচনে বেশির ভাগ সময়ই শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছিল জাতীয় পার্টি (জাপা)। তবে এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন চেহারা দেখিয়েছে এই দল। ১৪তম সংসদ নির্বাচনে দলটি প্রার্থী দিয়েছিল ১৯৬টি আসনে; কিন্তু কোনওটিতেই জয় লাভ করতে পারেনি। বিশেষ করে রংপুরের দলটির ‘দুর্গ’ হিসেবে পরিচিত আসনগুলোতেও দেখা গেছে হতাশাজনক ফলাফল। এই ভয়াবহ পরাজয়ে সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের এবং মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারীর শোচনীয় নৈখিক হার। তারা নিজ নিজ আসনে তৃতীয় স্থানেইহ করেছেন।

রংপুরের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বাড়ি রয়েছে এই শহরে। আর এখানেই ছিল দলের মূল শক্তির কেন্দ্র। অতীতে এখান থেকে উচ্চমানের ভোট পেয়ে নিজেদের অবস্থান জোরদার করত দলটি। আলবানী ঢেলে দিয়ে ১৯৯১ সালে এক নজির সৃষ্টি করে ২২১টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩৫টি আসনে জয় পায় জাপা। এরপর ১৯৯৬ সালে ৩২টি, ২০০১ সালে ১৪টি আসনে তারা জয়লাভ করে। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের অংশ হিসেবে ২৭টি আসনে জয় অর্জন করে। ২০১৪ সালে একতরফা নির্বাচনে দলের ৩৪ জন প্রার্থী বিজয়ী হয়। ২০১৮ সালে মহাজোটের অংশ হিসেবে ২২টি আসনে জয় ছিনিয়ে নেয় দলটি। আর সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে পায় ১১টি আসন। কিন্তু এবার পুরো নির্বাচনে তাদের চোখে কিছুই পড়েনি — দলের কোনও আসন থেকেই জোরদার প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা জয় পাওয়া সম্ভব হয়নি।

রংপুর-৩ আসনটি একসময় দলটির অবিসংবাদিত ‘দুর্গ’ ছিল। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। পরে তার ছেলে সাদ এরশাদ ও একবার উপনির্বাচনে রওশন এরশাদও জয় লাভ করেছিলেন। এই আসন ছিল তৃণমূলের সংগঠনের মূল কেন্দ্র। কিন্তু এবার দেখা গেছে, জামায়াত জোট এই ঐতিহ্যবাহী আসনটি জয় করে নিয়েছে। রংপুর-৩ এর এই জয় রংপুরের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।

অন্যদিকে, রংপুর-৩ সদর আসনে দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। কিন্তু তিনি এই আসনে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। এখানে জামায়াতের প্রার্থী মাহবুবুর রহমান বেলাল ১ লাখ ৭৫ হাজার ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী সামসুজ্জামান সামু পেয়েছেন ৮৪,৫৭৮ ভোট। আর জিএম কাদের পেয়েছেন মাত্র ৪৩,০০০ ভোট, যা দলের দীর্ঘদিনের আধিপত্য এবং গৌরবময় শক্তির অবসান ঘটিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচনের দিন জিএম কাদের ভোটদানেও যাননি। তিনি পুরো সময়টাই ছিলেন নিউসেনপাড়া মহল্লার বাসায় এবং কোনও কেন্দ্রও পরিদর্শন করেননি। এই অনুপস্থিতি এবং সামগ্রিক নৈরাজ্য ভোটের মাঠে দলের পরাজয়কে আরও নিশ্চিত করে তুলেছে, পাশাপাশি ভোটারদের মনোবল কমিয়ে দিয়েছে।

অন্যদিকে গাইবান্ধা-১ আসনে মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারীও তৃতীয় হয়েছেন। এখানে জামায়াতের মো. মাজেদুর রহমান সংসদ সদস্য হিসেবে বিজয়ী হন। বিএনপির জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলী দ্বিতীয় হয়েছেন। তবে শামীম হায়দার পাটোয়ারী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পিছিয়ে থেকেও তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।

এসব ফলাফলের পেছনে রয়েছে দলটির ভূমিকায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলা বহু কারণ। দীর্ঘদিন ধরে দলটির রাজনীতি ও কর্মকাণ্ড ভোটারদের মধ্যে আস্থা হারিয়েছে। বিশেষ করে, দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের সাথে জোটে থাকা দলের ভাবমূর্তি লাইনচ্যুত হয়েছে। ভোটাররা এখন মনে করছেন, তারা এক স্বতন্ত্র ও শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি না; বরং জনশূন্য ও দুর্বল।

এছাড়া দলের অভ্যন্তরে কোন্দল, নেতৃত্বের সংকট ও বিভাজন দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রমে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নেতাদের মধ্যে মতানৈক্য, সিদ্ধান্ত গ্রহণে অসঙ্গতি এবং নেতৃত্বের অভাব দলীয় প্রচারাভিযান ও মাঠের রাজনীতিকে দুর্বল করে ফেলেছে। নির্বাচনকালীন সময়েও দলের শীর্ষ নেতারা সক্রিয় না থাকায় ও পরোভাগে অনুপস্থিত থাকায় ভোটারদের মনোবল কমে গেছে। দলের চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের কেন্দ্রীয় নির্বাচনী কার্যক্রমে উপস্থিত না থাকাও ভোটের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo