খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনায় নগরবাসী গভীর উদ্বেগে আছে। এমন হামলা দিয়ে সন্ত্রাসীরা চায় সংবাদকের কলম নীরব থাকুক, কিন্তু খুলনার সাহসী সাংবাদিকরা তা মেনে নিচ্ছে না এবং ঘটনার পর থেকেই রাস্তায় আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রেসক্লাব আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় বৃহস্পতিবার সকালে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা 확보 এবং হামলা সংঘটিতকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি আমাদেরও। আমরা পুলিশ প্রশাসনকে আহ্বান জানিয়ে বলেছি—দ্রুত সময়ের মধ্যে দোষীদের ধরতে হবে এবং গত দুই বছরে ঘটে যাওয়া হামলার মামলাগুলোর দোষীদের বৃহৎভাবে সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে আমরা আপস করব না। খুলনার ১০ লাখ মানুষ ও এখানে কর্মরত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। মাদকের বিস্তার রুখতেও কঠোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রশাসক মঞ্জু বলেন, খুলনা প্রেসক্লাব আমাদের মিলনস্থল; এখানে কাজ করা সাংবাদিকরা অত্যন্ত সাহসী। পূর্বেও অনেক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা প্রতিবাদ তুলে এসেছে। তিনি আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, 이번 হামলার রহস্য উদঘাটন করে হামলাকারীরা গ্রেফতার হবে এবং প্রশাসন আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। সরকারকে তিনি দ্রুত প্রাসঙ্গিক পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান এবং মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি খুলনাকে নিরাপদ শহর গড়ার আহ্বান জানান।
এ সভা খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাব সভাপতি মোস্তফা সরোয়ার; পরিচালনা করেন যুগ্ম-সম্পাদক বেল্লাল হোসেন সজল। বক্তৃতা করেন প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি সোহরাব হোসেন, কোষাধ্যক্ষ বিমল সাহা, কার্যনির্বাহী সদস্য কে এম জিয়াউস সাদাত ও ক্লাবের অন্যান্য সভাপতি ও সদস্যগণ। বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফুজ জামান, নাগরিক ফোরাম খুলনা কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব এসএম ইকবাল হাসান তুহিন, সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সরদার আবু তাহের প্রমুখও বক্তব্য রাখেন।
প্রতিবাদ সভায় প্রেসক্লাবের বর্তমান ও সাবেক সদস্যদের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন—মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনা, খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়ন, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন (খুলনা জেলা শাখা), বাংলাদেশ জার্নালিস্ট প্রটেক্ট কমিটি ও নাগরিক ফোরাম খুলনাসহ অনেকে একাত্মতা প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে সকালেই প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, ১৪ জুলাই মঙ্গলবার রাতের দিকে খুলনা শান্তিধাম জাতিসংঘ পার্কের পশ্চিম পাশে বসে থাকা অবস্থায় কয়েকজন দুর্বৃত্ত লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ওই সময় বসে থাকা সাংবাদিকদের মধ্যে ছিলেন খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সদস্য ও স্টার নিউজের খুলনা ব্যুরো প্রধান রাফিউল ইসলাম টুটুল, প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য ও এসএ টিভির খুলনা প্রতিনিধি রকিবুল ইসলাম মতি, ক্লাবের অস্থায়ী সদস্য ও দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার খুলনা ব্যুরো প্রধান আওয়াল শেখ এবং দৈনিক আমাদের সময়ের খুলনা প্রতিনিধি সৈয়দ হুমায়ুন কবির রানাসহ several সাংবাদিক। এ ঘটনায় সাংবাদিক সমাজ ও নাগরিক সমাজ কড়া নিন্দা ও দ্রুত বিচারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।