আর্জেন্টিনা এবার চতুর্থ বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের দোরগোড়ায়। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আলবিসেলেস্তেরা টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠেছে এবং মেসি খেলবেন তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল।
আগামী রোববার স্পেনের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার ম্যাচে মাঠে নামলেই মেসি এক অনন্য কীর্তি গড়বেন — ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে অংশ নেবেন। এই রেকর্ডের অন্য নামটা হলো ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি কাফু।
মেসির প্রথম বিশ্বকাপ ফাইনালটি ছিল ২০১৪ সালে ব্রাজিলে; তফসিলে জার্মানির সঙ্গে ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের একটি গোলে আর্জেন্টিনার স্বপ্ন ভেঙে গিয়েছিল। কাতারে আট বছর পর আবার মেসির নেতৃত্বে দল সিরিয়াস হয়ে ওঠে—সেই টুর্নামেন্টে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আর্জেন্টিনাকে ফাইনাল পর্যন্ত নিয়ে যান। ফ্রান্সের সঙ্গে অসাধারণ ৩-৩ গোলে শেষ হওয়া ফাইনালে পেনাল্টি শুট-আউটে জয় করে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হয় এবং মেসির কীর্তি সাংস্কৃতিকভাবে ঐতিহাসিক হয়ে উঠে।
বর্তমানে ৩৯ বছর বয়সী মেসি এই বিশ্বকাপে আট গোল করেছেন এবং গোল্ডেন বুট প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছেন। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিনি দুইটি অ্যাসিস্ট করে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিতে বড় ভূমিকা ছিলেন। রোববার মাঠে নেমে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখলে মেসি ব্রাজিলিয়ান লেজেন্ড কাফুর সঙ্গে তিনটি ফাইনালের কীর্তি ভাগ করবেন।
কাফু তার দলে ১৯৯৪ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলেছিলেন—সেই আসরে ব্রাজিল ইতালিকে পেনাল্টিতে হারিয়ে শিরোপা জেতে। পরে তিনি ১৯৯৮ ও ২০০২ সালেও ফাইনালে ছিলেন; মোট তিনটি ফাইনালে খেলেছেন এবং ১৯৯৪ ও ২০০২ সালে জয়ী হন, ১৯৯৮ সালে পরাজয় দেখেন। কাফু টানা তিনটি বিশ্বকাপে ফাইনালে খেলার রেকর্ডটি মেসি তুলতে পারছেন না, তবে মোট তিনটি ফাইনালে খেলায় তারা সমান হয়ে যাবেন।
রোববারের ম্যাচে মেসি কেবল ব্যক্তিগত কৃতিত্বই নয়, আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করতে পারবেন।