সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা — আর সেই জয়োত্তর উদযাপনের মাঝেই ফুটবলের এক মজার রহস্য উন্মোচিত হল। গোলপোস্টের কাছে পড়ে থাকা এক পানির বোতল তুলে নেন উইঙ্গার নিকো গঞ্জালেস। পরীক্ষা করে দেখা গেলো বোতলের মধ্যে ছিল ইংলিশ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের জন্য বানানো একটি বিস্তারিত টাইব্রেকার নির্দেশনা।
ঘটনা বুঝতে পেরে গঞ্জালেস সঙ্গে সঙ্গে ডেকে আনেন দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে। পরে ডিফেন্ডার মার্কোস সেনেসি ও এক স্টাফ সদস্যও যোগ দিয়ে তারা বোতলের ডাকটেপ খুলে কাগজটি খুঁটিয়ে পড়েন। বাইরে থেকে সাধারণ এ পানির বোতলই মনে হলেও কাগজে ছিল আক্রমণকারীদের সম্ভাব্য পেনাল্টি শট এবং পিকফোর্ডকে কোন দিকে ঝাঁপ দিতে হবে—এমন বিশদ নির্দেশ।
নির্দেশনায় মেসির জন্য বলা ছিল—প্রথমে বাঁ দিকে যাবে ভান করে পরে ডান দিকে ঝাঁপ দিতে। গনসালো মন্টিয়েলের শট ঠেকাতে বাঁ দিকে ঝাঁপ দেওয়ার নোট ছিল। লেয়ান্দ্রো পারেদেসের ক্ষেত্রে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল সামান্য বাঁদিকে অবস্থান নিয়ে ডান দিকে ঝাঁপ দেওয়ার। এনসো ফার্নান্দেসের বিপক্ষে কেন্দ্রেই দাঁড়িয়ে থাকা উত্তম হবে, এমনই নির্দেশ ছিল।
এমনকি তৃতীয় গোলকিপার জেরোনিমো রুলির জন্যও নিচে একটি নোট রাখা হয়েছিল—যদি তিনি কোনোভাবে টাইব্রেকারে আসেন, তখন বাঁ দিকে ঝাঁপ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। আবার কিছু খেলোয়াড়ের নাম সেখানে ছিল না; কারণ ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, হুয়ান মুসো ও এমিলিয়ানো মার্তিনেজদের পেনাল্টির কোনো নির্দিষ্ট রেকর্ড না থাকায় তাদেরকে তালিকাভুক্ত করা হয়নি।
সবচেয়ে মজার অংশটি ছিল থিয়াগো আলমাদার ব্যাপারে—তার নামের পাশে লেখা ছিল, ‘যেদিকে মন চাইবে, সেদিকেই লাফ দিও।’ এক কথায় অপ্রত্যাশ্য শটের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
তবে শেষ পর্যন্ত সেই কাগজে লিখা কৌশলগুলো ব্যবহার করতে হয়নি পিকফোর্ডকে। ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৮৪ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থাকলেও পরবর্তী সাত মিনিটের তীব্র আক্রমণে দলটি পালটা দিতে পারে। এনসো ফার্নান্দেস ম্যাচে আবার সমতা এনে দিলে যোগ করা সময়ে লাউতারো মارتিনেসের হেডে জয়সূচক গোল আসে—এসব করে আলবিসেলেস্তেরা টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে জায়গা করে নিল।
আর্জেন্টিনা এবার ১৯ জুলাই দিবাগত রাতে শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে স্পেনের বিরুদ্ধে নামবে। পানির বোতলে লুকিয়ে থাকা ওই টিপসগুলো মজার এক কাহিনী হিসেবে রয়ে গেল—কিন্তু শেষ হাসি হাসপাতিতেই হল আর্জেন্টিনার।