1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
সবাই বলেছিল আবহাওয়া অনুকূলে থাকবে, তাই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী চট্টগ্রাম ব্যতীত সারাদেশে এইচএসসি পরীক্ষা চলবে: প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ‘সবার আশ্বাস ছিল আবহাওয়া অনুকূলে থাকবে, তাই পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়’: সংসদে শিক্ষামন্ত্রী কাউকে আঘাত করতে চাইনি, বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী দুই সন্তানের সামনেই স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, স্বামী ছায়েদুল গ্রেফতার: র‍্যাব জুনে সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৬৩ জনের মৃত্যু, মোটরসাইকেলে নিহত ১৭৩ জয়পুরহাটে মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণ মামলায় প্রতিবেশী আলম মণ্ডলকে মৃত্যুদণ্ড সেনাবাহিনী স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক; জনগণের আস্থা গভীর: প্রধানমন্ত্রী ভাড়া বিরোধে লালবাগে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা, দুইজন আটক প্রধানমন্ত্রী: দেশ ও পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে

‘সতলুজ’ ভারতে সরানোতে তীব্র বিতর্ক: গুম ও হেফাজতে হত্যা বিষয়ক ছবির স্ট্রিমিং বন্ধ

  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬

ভারতের ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জি-ফাইভের ভারতীয় ক্যাটালগ থেকে পাঞ্জাব ভিত্তিক বিতর্কিত ছবি ‘সতলুজ’ সরিয়ে দেওয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া এবং রাজনৈতিক বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মুক্তির মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভারতীয় দর্শকদের জন্য ছবিটির স্ট্রিমিং বন্ধ করে দেওয়া হয়; তবে একই ছবি জি-ফাইভ গ্লোবালে দেশবহির্ভূতভাবে এখনও দেখা যাচ্ছে।

ছবিটি শিখ মানবাধিকারকর্মী জসওয়ন্ত সিং খালরার জীবনের ওপর নির্মিত। প্রধান ভূমিকায় ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা ও গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জ; আর অন্য চরিত্রে রয়েছেন অর্জুন রামপাল। পরিচালনা করেছেন হানি ত্রেহান। ছবিটি মূলত ১৯৮৪–১৯৯৪ সালের মধ্যে পাঞ্জাবে পুলিশের হাতে নিখোঁজ হওয়া এবং বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার বহু মানুষকে খোঁজে বের করা ও তাদের সৎকারের লড়াই তুলে ধরে।

ছবিটি হঠাৎ করে সরিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়ে দিলজিৎ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, “আমি এই অন্ধকারকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছি। খালরা সাহেবের কণ্ঠস্বর কেউ দমাতে পারবে না।” তার কথ্যভাবেই ছাপ রেখে তিনি আরও বলেন—তারা ছবিটি থামাতে পারবে না। মুক্তির আগেই দোসাঞ্জ জানিয়েছিলেন ছবিটি ভারতীয় ক্যাটালগ থেকে সরানো হতে পারে; গতকাল একটি ইনস্টাগ্রাম লাইভে তিনি ভক্তদের ছবি ডাউনলোড করে রাখার পরামর্শও দিয়েছিলেন।

দোসাঞ্জ রাজস্থানে এক খোলা আকাশের নিচে প্রজেক্টরে ছবিটির গণপ্রদর্শনের ভিডিও ক্লিপ এক্সে (সাবেক টুইটার) শেয়ার করে পাঞ্জাবিতে লিখেছেন, ‘হুন নি রুকনি ফিল্ম। খালরা সাব দি আওয়াজ নু কোই নি দাবা সাকদা’—অর্থাৎ, এই চলচ্চিত্র আর থামানো যাবে না।

জি-ফাইভ কর্তৃপক্ষ একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলেছে, ‘মুক্তির পর থেকে “সতলুজ” ছবিটির প্রতি দর্শকদের সাড়া অভিভূত করার মতো। আমরা ছবির সৃজনশীল ভাবনার সঙ্গে দৃঢ়ভাবে আছি। তবে বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভারতে ছবিটির স্ট্রিমিং সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। আমরা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যথাযথ উপায়ে ছবিটি যত দ্রুত সম্ভব ভারতীয় দর্শকদের কাছে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি’।

রাজনৈতিক মহলে ঘটনাটি তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। শিরোমনি আকালি দল (এসএডি) সভাপতি সুখবীর সিং বাদল এই সিদ্ধান্তকে ‘স্মৃতি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং বলেছেন, পাঞ্জাবকে তার ইতিহাসের সঙ্গে মোকাবিলা করতে দেওয়া উচিত; চাপা দেওয়া সমাধান নয়। কংগ্রেস নেতা সুখপাল সিং খাইরা অবিলম্বে ছবিটি পুনরায় ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ফেরানোর দাবি জানান। আম আদমি পার্টির সংসদ সদস্য মালবিন্দর সিং কাং কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করে বলেন, ছবিটি ব্লক করে সরকার তাদের প্রকৃত চিত্র লুকাতে চাইছে। শিরোমনি গুরুদ্বারা প্রবন্ধক কমিটি (এসজিপিসি)-র প্রধান সচিব কুলবন্ত সিং মানান মনে করান, জনগণের filme দেখার এবং নিজস্ব মতামত গঠনের অধিকার রয়েছে।

ফিল্মটির পথ নির্বিঘ্ন ছিল না। ২০২২ সালে সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন (সিবিএফসি)-র কাছে ছবিটি অনুমোদনের জন্য পাঠানো হলে বোর্ড ১২৭টি দৃশ্য কাটা এবং নাম পরিবর্তন করে ‘পাঞ্জাব ৯৫’ রাখার নির্দেশ দেয়। প্রযোজকরা বম্বে হাইকোর্টে আপিলও করেছিলেন, পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। ২০২৩ সালের টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রিমিয়ার থেকে ছবিটি সরিয়ে নেওয়ার পর বহু জটিলতার মধ্য দিয়ে অবশেষে ২০২৪ সালের ৩ জুলাই ‘সতলুজ’ নামে ছবিটি জি-ফাইভে মুক্তি পায়। নির্মাতা হানি ত্রেহান বলেন, থিয়েটার রিলিজ না পাওয়া পর্যন্ত চেষ্টাগুলো ব্যর্থ হওয়ায় বেশ গোপনীয়ভাবে ওটিটি মুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। প্রযোজকরা দাবি করেছেন, ওটিটিতে ছবিটি কোনো কাটছাঁট ছাড়া স্ট্রিম হয়েছে।

কেন জসওয়ন্ত সিং খালরা ও তার কাজ গুরুত্ববহ? ১৯৯০-এর দশকে খালরা পাঞ্জাবে প্রায় ২৫ হাজার ‘অপরিচিত’ মৃতদেহের রহস্য উদ্‌ঘাটন করেন এবং এই অনুসন্ধানে শত শত পুলিশ কর্মকর্তার নাম উঠে আসে। ১৯৯৫ সালে তাকে অপহরণ করে পুলিশ হেফাজতেই হত্যা করা হয়; কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার (সিবিআই) তদন্তের পরে ২০০৭ সালে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে চারজন পুলিশকর্মীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

চলচ্চিত্রটি ভারতীয় ক্যাটালগ থেকে সরিয়ে দেওয়ায় দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে ‘দ্বিমুখী নীতি’ ও পক্ষপাতমূলক সেন্সরশিপের অভিযোগ উঠেছে। সমালোচকরা প্রশ্ন করছেন, যেখানে রাজনীতিভিত্তিক ও বিতর্কিত কিছু চলচ্চিত্র—যেমন ‘দ্য কাশ্মীর ফাইলস’ (২০২২), ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ (২০২৩) বা ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’ (২০২৫)—অবরোধ ছাড়া প্রদর্শিত হয়েছে, সেখানে পাঞ্জাবের বাস্তব মানবাধিকার ঘটনার ওপর নির্মিত এই ছবিকে কেন দর্শকের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে?

ঘটনাটি ভারতের সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও ন্যায়বিচারের সংবেদনশীলতার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রশ্নগুলোকে আবার আলোচনায় এনেছে। যে নির্ঘাত ইতিহাসের সামনে দাঁড় করায় এমন এক চলচ্চিত্র দেখার অধিকার, প্রকাশের স্বাধীনতা এবং সেন্সরশিপ—এসবই এখন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo