1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা কেন? শেখ হাসিনাকে এখনই দেশে ফেরার আহ্বান—আসিফ নজরুল চট্টগ্রাম অঞ্চলে ছয় দিনে বন্যা ও পাহাড়ধসে ৪৩ জন নিহত বন্যার প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রাম বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা কেন — এখনই দেশে ফিরুন: অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল হাটহাজারীতে পুলিশের ‘সোর্স’ বলে জানানো দর্জিকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা চট্টগ্রামে বন্যা মোকাবিলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন চট্টগ্রাম ও পার্বত্য এলাকায় বন্যা মোকাবেলায় দায়িত্ব পেলেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত হাটহাজারীতে পুলিশের তথ্যদাতাকে গুলি করে কুপিয়ে হত্যা বিশ্বকাপ উন্মাদনায় দেশে ১১ মৃত্যু, হাইকোর্টে উদযাপন-শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের রিট অনুমতি ছাড়াই প্রাথমিক বৃত্তির আংশিক ফলাফল ওয়েবসাইটে আপলোড

চট্টগ্রাম অঞ্চলে ছয় দিনে বন্যা ও পাহাড়ধসে ৪৩ জন নিহত

  • আপডেটের সময় : শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬

টানা ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিস্তীর্ণ অংশে বন্যা ও পাহাড়ধসে ছয় দিনে অন্তত ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনায় প্রভাবিত হয়েছেন প্রায় ৮৬৬,৬১৪ মানুষ এবং চলমান বন্যায় অঞ্চলজুড়ে ২৪২ কিলোমিটার সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে।

শনিবার (১১ জুলাই) রাতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রশাসনের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রাণহানির সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে কক্সবাজার জেলায়—সেখানে মারা গেছেন ২৩ জন, যার মধ্যে ১৩ জন রোহিঙ্গা। চট্টগ্রামে ১১ জন, বান্দরবানে ৬ জন এবং রাঙামাটিতে ৩ জন নিহত হয়েছেন। মোট মিলিয়ে প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৩ জনে।

দুর্যোগে আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন। তাদের মধ্যে চট্টগ্রামে ১২ জন, কক্সবাজারে ২৪ জন (যাদের মধ্যে ৫ জন রোহিঙ্গা), খাগড়াছড়িতে ১ জন এবং বান্দরবানে ২ জন আহত হয়েছেন।

জেলা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের সংখ্যা হলো: চট্টগ্রাম জেলায় ৬৬২,০০০ জন, কক্সবাজার জেলায় ১৫৮,০২৭ জন, রাঙামাটিতে ৩,৮২০ জন, খাগড়াছড়িতে ৩৪,৪১৭ জন এবং বান্দরবানে ৮,৩৫০ জন—মোট ৮৬৬,৬১৪ জন।

বন্যা মোকাবিলায় জেলাগুলিতে মোট ১,৭২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। জেলার ভিত্তিতে সেগুলো হলো: চট্টগ্রাম ৬৭০টি, কক্সবাজার ৬৪০টি, রাঙামাটি ৪৭টি, খাগড়াছড়ি ১৫০টি এবং বান্দরবান ২২০টি। এই আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে এখন পর্যন্ত মোট ৩৭,০৫৫ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন—চট্টগ্রামে ২২,৬০০ জন, কক্সবাজারে ২,৯৭৪ জন, রাঙামাটিতে ৩,৮২০ জন, খাগড়াছড়িতে ২,৯১৬ জন এবং বান্দরবানে ৪,৭৪৫ জন।

তৎকালীন সহায়তা হিসেবে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নানা উপকরণ বিতরণ করেছে। চট্টগ্রাম জেলায় এখন পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে ৫৪০ মেট্রিক টন চাল, নগদ ৪৩ লাখ টাকা, ৩০,৭০০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১৭,২৫০ প্যাকেট রুটি-ভাতসহ রান্না করা খাবার।

কক্সবাজার জেলায় বিতরণ করা হয়েছে ১৮১ মেট্রিক টন চাল, ৩৩০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং নগদ ১৭ লাখ ৭ হাজার ৫০০ টাকা। রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় পাঠানো হয়েছে ২৩৫ মেট্রিক টন চাল ও ২০ লাখ টাকা। খাগড়াছড়ি জেলায় দেওয়া হয়েছে ৬৭.৬ মেট্রিক টন চাল, নগদ ৮ লাখ টাকা, ৪৮৭ প্যাকেট শুকনো ও অন্যান্য খাবার এবং আরও ২০,০০০ খাবার প্যাকেট। বান্দরবান জেলার সাত উপজেলার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা, ২,৯৫৩ প্যাকেট শুকনো খাবার, ২৩৫ প্যাকেট শিশু খাদ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন।

অন্যদিকে বান্দরবান পার্বত্য জেলায় বিভিন্ন এনজিও—ব্র্যাক, ওয়ার্ল্ড ভিশন, গ্রাউস ও সোনে—মিলিয়ে আরও ১,৮৪৫ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সেখানে অতিরিক্ত ৬৮ মেট্রিক টন চাল ও ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকা উপ-বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তারা ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার রেখে চলবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সেবা পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো লোকসত্ত্বা ও অবকাঠামো পুনরুদ্ধারে কাজ করছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo