বিশ্বকাপের শেষ-১৬ খেলায় মিসরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে এল আর্জেন্টিনা। ম্যাচে এক পর্যায়ে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ ১১ মিনিটে তিনটি গোল করে তারা অসামান্য প্রত্যাবর্তন দেখাল — এবং সেই নাটকীয় মুহূর্তে আবেগে ভেঙে পড়লেন দলের অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
খেলাটা মেসির জন্য সহজ ছিল না। প্রথমার্ধেই বারবার সুযোগ সৃষ্টি করলেও তিনি একটি পেনাল্টি শেষ করতে ব্যর্থ হন। এরপর তার একটি ফ্রি-কিক পোস্টে লাগে এবং মিসরীয় গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর একের পর এক সেভ করে আর্জেন্টিনাকে বারবার হতাশ করেন। দল যখন দুই গোলে পিছিয়ে ছিল, তখন অনেকেই মনে করছিল বিশ্বকাপ থেকে বিদায় অনিবার্য।
তবে সামর্থ্য আর মানসিক শক্তি দেখিয়েই ফের ফুটবলের নাটক গড়ে তোলেন মেসি। তিনি প্রথমে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোকে অ্যাসিস্ট করে আর্জেন্টিনার প্রথম গোল করান, পরে নিজেই সমতা ফিরিয়ে আনেন। যোগ করা সময়ে এনসো ফের্নান্দেসের জয়সূত্রিক গোল ম্যাচ মোড় ঘোরিয়ে দেয় এবং আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য জয় নিশ্চিত করে। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে আগে কখনোই দুই গোলে পিছিয়ে থেকে বিশ্বকাপে জয় পায়নি আর্জেন্টিনা।
শেষ সাইরে সাদা-কালো মুহূর্ত; ম্যাচ শেষবাজি বাঁশি বাজতেই মেসির আবেগের বাঁধ ভেঙে পড়ে। দুই মুঠো করে কান চেপে ধরে আনন্দে চেঁচিয়ে উঠেন তিনি, কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই চোখের জল ঢালা দেখা যায়। সতীর্থরা ছুটে এসে তাকে জড়িয়ে ধরে, আর স্টেডিয়াম উল্লাসে প্রতিধ্বনিত হয় — অনেক কণায় আনন্দাশ্রু ঝরে পড়ে।
ফুটবলে মেসির কৃতিত্ব দীর্ঘকাল মনে রাখা হবে, কিন্তু খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে থেকে এমন নাটকীয় প্রত্যাবর্তন, যেখানে তিনি একই ম্যাচে পেনাল্টি মিস করেছেন, তারপর দলের জন্য গোলও করেছেন — সেই রাতে আবেগটা অন্যরকম ছিল। শেষ বাঁশির পরের দৃশ্যটাই তার পেশাদার জীবনের আবেগ ও প্রতিশ্রুতির সবচেয়ে পরিষ্কার প্রতিফলন।