1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ওমরাহ করতে যাচ্ছিলো; প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের মা-ছেলে-মেয়ে নিহত সংবাদিকতা নির্ধারণে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন কে সাংবাদিক, কে নয় তা নির্ধারণে স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী দু’এক দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতায় সাবেক ছাত্রদল নেতা সাগরকে কুপিয়ে হত্যা ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন ১২৮ বার পেছালো সাতক্ষীরা-৪ এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে চালকের ওপর হত্যাচেষ্টার মামলা সাগর–রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১২৮ বার পেছাল দল থেকে বহিষ্কার হলে এমপি নজরুলের আসন শূন্য হবে: ইসি

গৌরীনাথপুর: ড্রাগন ফলের রাজধানী, দিনে ১–১.৫ কোটি টাকার বেচাকেনা

  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার গৌরীনাথপুর বাজার গত কয়েক বছরে বদলে গেছে। আগে যেখানে ছিল ছোট একটি প্রান্তিক বাজার, আজকে তা ড্রাগন ফল বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে পরিণত হয়েছে। বাজারজুড়ে শতাধিক পাইকারি আড়ত গড়ে ওঠায় গৌরীনাথপুরকে এখন ‘ড্রাগন ফলের রাজধানী’ বলা হচ্ছে। এখানে দিনে গড়ে এক থেকে দেড় কোটি টাকার ড্রাগন ফল কেনাবেচা হয়।

সকালে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষকরা তাদের তাজা ফল বাজারে আনেন। বাজারে রঙ-বেরঙের — লাল, গোলাপি ও হলুদের — ড্রাগন ফলের স্তূপ চোখে পড়ে। অর্ধ-আড়ত ভর করে প্যাকিং, বাছাই ও ওজন করার কাজ। আড়তগুলোতে সাজিয়ে রাখা লাল টুকটুকে ফলগুলি বিক্রেতা ও পাইকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। দিনভর ক্রেতা-বিক্রেতার দাম দর হাঁকা-হাকডাক চলে; শেষে ট্রাক-ভ্যানে ঢাকাসহ দেশের নানান অঞ্চলে ফল পাঠানো হয়।

পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, গড়ে প্রায় ১০০টির মতো আড়তে এই বেচাকেনা চলে। এখানে থেকে ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, রংপুরসহ দেশের নানা জেলায় সরবরাহ করা হয়। ফলের আকার ও মান অনুযায়ী দাম ওঠানামা করে।

স্থানীয় কৃষক শরিফুল ইসলাম জানালেন, ‘‘পাঁচ বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ করি। সরাসরি গৌরীনাথপুর বাজারে ফল নিয়ে আসলে পরিবহন খরচ ও নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে। ব্যাটারিচালিত ভ্যান, বাইসাইকেল বা বস্তায় করে আমরা ফল আনতে পারি, ফলে বিক্রিতাও সুবিধাজনক হয়।’’

আড়তদার সাইদুর রহমান বলেন, ‘‘মৌসুম ঘনিয়ে এলে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ফল আসে। বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এখানে এসে সরাসরি কিনে নিয়ে যায়। কৃষকরা যেন ভাল দাম পান, সেটি নিশ্চিত হচ্ছে, আমরাও ব্যবসা করতে পারছি।’’

বাজারের একজন পাইকারি ও খুচরা আড়তদার সাঈদ সরকার বলেন, ‘‘বাইরের জেলার ব্যবসায়ীরা এখানে সাচ্ছন্দ্যে ব্যবসা করতে পারেন। ফলের মান ভালো হওয়ায় ক্রেতার আস্থা আছে।’’ নাটোর থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী আব্দুস সামাদও বলেছেন, গৌরীনাথপুরে ফলের মান ও বাজারের নিরাপত্তা সন্তোষজনক হওয়ায় তিনি নিয়মিত এখানে ব্যবসা করেন।

বাজারে হিসাবরক্ষক হিসেবে কাজ করা জাকির হোসেন নামের এক শিক্ষার্থী জানান, বাজার গড়ে ওঠায় অনেকের কর্মসংস্থান হয়েছে। ‘‘পড়াশোনার সঙ্গেও আড়তে কাজ করে মাসে ১৫–১৮ হাজার টাকা পাই,’’ বললেন তিনি। আড়তগুলোতে ফল পরিমাপ, প্যাকেজিং ও পরিবহনের জন্য আলাদা লোকও নিয়োজিত থাকে; তারা মাসে গড়ে ১২–১৫ হাজার টাকা আয় করেন।

কৃষি বিভাগও সজাগ রয়েছে। মহেশপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন সুলতানা বললেন, ‘‘ড্রাগন ফলের নিরাপদ উৎপাদন নিশ্চিত করতে কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কারিগরি পরামর্শ দিচ্ছি। কোন ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার না হয়, তা নিয়ে আমরা নজরদারি করছি। পাশাপাশি বাজারের সুষ্ঠু বিপণন ও কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার কাজ চলছে।’’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ মৌসুমে ঝিনাইদহ জেলায় প্রায় ১,১২৯ হেক্টর জমিতে ড্রাগন ফলের আবাদ হয়েছে। জেলায় মোট উৎপাদন প্রায় ৩৬,১৮২ মেট্রিক টন। উপজেলাভিত্তিক বিভাজন অনুযায়ী সদর উপজেলায় ২৫ হেক্টর, কোটচাঁদপুরে ৪৩৯ হেক্টর, মহেশপুরে ৩১৬ হেক্টর, কালীগঞ্জে ৩২৮ হেক্টর, হরিণাকুন্ডুতে ৬ হেক্টর ও শৈলকুপায় ১৫ হেক্টর জমিতে ড্রাগন চাষ হয়েছে।

চাহিদা বাড়ছে এবং উৎপাদন বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকায় গৌরীনাথপুর বাজারের গুরুত্ব আরও বাড়ছে। বাজার ও কৃষি প্রশাসন সমন্বয়ে কাজ করলে এখানকার কৃষক আর ছোট ব্যবসায়ীর আয় বাড়বে এবং আরও বেশি কর্মসংস্থান তৈরির সম্ভাবনা খুলে যাবে বলে এলাকাবাসী আশা করছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo