1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ০২:৪৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
তুরাগে মরদেহ উদ্ধারের দাবি বিভ্রান্তিকর: ডিএমপি হাদি হত্যা মামলার তদন্ত ১৭তম বার পেছালো, শুনানি হবে ১৫ জুলাই হাদি হত্যা মামলা: তদন্ত ১৭তমবারও পিছিয়ে, শুনানি আগামী ১৫ জুলাই ধার্য এ বছরই দেশে ফিরব, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতেই: শেখ হাসিনা হাদি হত্যা মামলার তদন্ত ১৭তমবার পেছালো সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর সংসদে আশা: প্রস্তাবিত বাজেট দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ঝামেলামুক্ত করবে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফরের জন্য ধন্যবাদ প্রস্তাব পাস মালয়েশিয়া ও চীন সফরের সফলতায় প্রধানমন্ত্রীকে সংসদের ধন্যবাদ — প্রস্তাব কণ্ঠভোটে পাস মালয়েশিয়া আসিয়ানে সমর্থন দেবে, চীন তিস্তায় সর্বোচ্চ সহায়তা দেবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মুম্বাইয়ে মহররম মিছিলে বিষাক্ত ক্যাপসুল বিতরণ: ১৫ হাজারকে হত্যা করার পরিকল্পনা, এক গ্রেফতার

  • আপডেটের সময় : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬

মুম্বাই পুলিশের তৎপরতায় মহররমের এক শোক মিছিলে বড় ধরনের নাশকতা প্রতিরোধ করা গেছে। শুক্রবার (২৬ জুন) বাইকুল্লা এলাকার রেহমতাবাদ কবরস্থানের কাছে আয়োজিত মিছিলে বিষাক্ত ক্যাপসুল বিলির সময় ফায়াজ প্রেমজি নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন যে, তার লক্ষ্য ছিল অন্তত ১৫ হাজার মানুষকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফায়াজ নিজেকে ক্যাপসুল বিতরণকারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে মিছিলে উপস্থিত মানুষদের মধ্যে ওষুধ বা ব্যথানাশক হিসেবে ক্যাপসুল ছড়িয়ে দিচ্ছিলেন। মিছিলের ভিড়কে সুযোগ করে নিয়ে তিনি এটি নির্বিঘ্নে করছিলেন এবং দাবি করছিলেন যে এগুলো ইমিউনিটি বুস্টার।

কিছুক্ষণ পর মিছিলে অংশ নেওয়া কমপক্ষে ১১ জনই সেই ক্যাপসুল সেবনের পর অসুস্থ বোধ করতে থাকে। স্থানীয় এক ব্যক্তি সালমান সায়েদ তীব্র পেট ব্যথা ও বমি-বিসর্জনের অভিযোগ করলে এই ঘটনায় সন্দেহ সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

বড় বিপর্যয় এড়ানো যায় তখনই, যখন মিছিলে উপস্থিত তিন নারী স্বেচ্ছাসেবী তাদের সন্দেহজনক আচরণ দেখে একটি ক্যাপসুল খুলে ভেতরের পাউডার দেখে আতঙ্কিত হন। তারা দ্রুত লাউডস্পিকারে মাইক করে মানুষকে ওই ক্যাপসুল না খাওয়ার আহ্বান জানান এবং পুলিশকে খবর দেন। তাদের তৎপরতার কারণে মিছিলে আরও অনেককে সতর্ক করা সম্ভব হয়।

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তের কাছে থাকা প্রচুর পরিমাণ ক্যাপসুল জব্দ করে। তল্লাশিতে প্রায় ১৪,৯০০টি বিষাক্ত ক্যাপসুল পাওয়া গেছে। মুম্বাই পুলিশের ডেপুটি কমিশনার জয়ন্ত মিনা জানিয়েছেন, এই ক্যাপসুলগুলোতে জিঙ্ক ফসফাইড নামক অত্যন্ত বিষাক্ত রাসায়নিক মিশানো ছিল, যা সাধারণত ইঁদুর মারার বিষ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ৩০ হাজার খালি ক্যাপসুল ও ৫০ কেজি ফসফরাস অর্ডার করেছিল—অর্থাৎ পুলিশ ধরা না পড়ে গেলে তিনি আরো বড় পরিসরে হামলা চালাতে পারতেন।

ফায়াজ প্রেমজি বিবিএ ডিগ্রিধারী এবং অতীতে ইরান ও ইরাক সফর করেছেন বলে জানা গেছে। তাঁর সেই সফরগুলো ও কোনো জঙ্গি বা অপরাধমূলক সংগঠনের সঙ্গে যোগসূত্র আছে কি না, তা তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন। গত রাতে তাকে আদালতে হাজির করলে বিচারক দুই দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বাইকুল্লা থানায় ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৩ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, জিঙ্ক ফসফাইড মানবদেহের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। পাকস্থলীর অম্লতার সংস্পর্শে এটি ফসফিন গ্যাস উৎপন্ন করে, যা দ্রুত হৃদযন্ত্র, ফুসফুস, লিভার, কিডনি ও মস্তিষ্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এমন বিষের কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক নেই; সময়মতো হাসপাতালে চিকিৎসা না পেলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম।

মুম্বাই পুলিশ ঘটনাকে বিস্তৃত ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখছেন কিনা এবং অন্য কোনো সহযোগী আছে কি না, তা নিয়েও গভীর তদন্ত চালাচ্ছে। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী ও চিকিৎসকরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করায় বড় কোনো প্রাণহানি রোধ করা সম্ভব হয়েছে, বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo