ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বিজুর বাড়িতে মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে পুলিশ অভিযান চালায়। ঘটনাটি কালীগঞ্জ পৌর এলাকার আড়পাড়া গ্রামে ঘটেছে।
পুলিশের দাবি, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সেখানে দলীয় নেতাকর্মীদের বৈঠক বা সমাবেশ হয়েছিল—এই ধরনের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী উপস্থিতদের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে ওই বাড়িতে যান তারা।
তবে পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য ভিন্ন। বিজুর ছোট ভাই মুস্তাক আহমেদ লাভলু জানান, ঘটনার সময় বিজু থাকলেও বাড়িতে কোনো দলীয় বৈঠক বা নেতাকর্মীর কোনো আয়োজন হয়নি। পুলিশ এসে কোনো ওয়ারেন্ট বা আনুমানিক ব্যাখ্যা না দিয়ে তাকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পরিবারের সদস্যরা বাধা দেন এবং পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। পরে আতঙ্কে বিজু বাড়ি থেকে সরে যান। যাওয়ার সময় পুলিশের দায়িত্বরত এক এসআই তাঁর ব্যবহৃত একটি আইফোন নিয়ে নেয় বলে পরিবারের দাবি, বর্তমানে তারা ভীত ও উদ্বিগ্ন।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ওপর ভিত্তি করে তাদের নজর ছিল যে বিজুর বাড়ির কার্যালয়ে নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছেন, তাই বিষয়টি নিবারণের জন্য তারা সেখানে যান। পুলিশকে দেখে উপস্থিতদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয় এবং একপর্যায়ে মোস্তাফিজুর রহমান বিজু দৌড়ে সেখান থেকে চলে যান। ওই সময় তার পকেট থেকে ব্যবহৃত একটি আইফোন পড়ে যায়, সেটিই বর্তমানে আমার কাছে আছে; পরে সেটি তাঁদের কাছে ফেরত দেওয়া হবে।
পুলিশ ও পরিবারের বিবৃতি মিলিয়ে ঘটনাস্থলে কি ধরনের আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, কোনো ওয়ারেন্ট দেখানো হয়েছিল কি না, বা আইফোন নেওয়ার প্রসঙ্গটি কীভাবে ঘটেছে—এ বিষয়ে স্থানীয় সূত্র থেকে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।