প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের সঙ্গে হতাশাজনক ড্র ভুলিয়ে বিশ্বকাপে শক্ত প্রতিশ্রুতি রেখে মাঠে নেমেছিল স্পেন। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে তারা সৌদি আরবকে সহজে ৪-০ গোলে হারিয়ে দারুণ ভাবে ঘুরে দাঁড়ালো — কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্টের ৬৫তম জন্মদিনে এর চাইতে বড় উপহার কত্যাও হতে পারত না।
আটলান্টা স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেনের আক্রমণ ঝড় উঠেছিল। ১০ মিনিটে মিকেল ওইয়ারসাবালের নিখুঁত ক্রস থেকে বার্সেলোনার তরুণ সেনসেশন লামিনে ইয়ামাল দূরের পোস্টে সুদক্ষভাবে স্লাইড করে বল জালে পাঠিয়ে এগিয়ে দিল। ১৮ বছর ৩৪৩ দিন বয়সী ইয়ামালের এই গোলটি তাকে ইতিহাসের পাতায় বসিয়েছে — ১৯৫৮ সালের পেলের পর থেকে বিশ্বকাপে ১৮ বা তার কম বয়সের খেলোয়াড়ের গোল করা রেকর্ডে তার নাম উঠল।
এর পরই মিকেল ওইয়ারসাবালের নিজের সময় শুরু হয়। ২১ মিনিটে প্রথম গোল শোধরান ওইয়ারসাবাল। মাত্র তিন মিনিট পর, ২৪ মিনিটে মার্ক কুকুরেয়া ও দানি অলমোরের পাস থেকে তিনি জোড়া গোল পূর্ণ করে স্পেনকে আরও এগিয়ে নেন। এই দ্রুত দুটি গোল স্পেন জাতীয় দলে বিশ্বকাপে সবচেয়ে দ্রুত দুটি গোল করার রেকর্ড সৃষ্টি করে — ২৪ মিনিটের মধ্যে জোড়া গোলের পুরনো রেকর্ডটি (২৫ মিনিট) তাদেরই কাঁধে উঠল; পুরনো রেকর্ডটি ছিল ১৯৩৪ সালের ব্রাজিলবিরোধী হোসে ইরারাগোরির। একই সঙ্গে ওইয়ারসাবাল প্রথম ২৪ মিনিটের মধ্যে ২ গোল ও ১ অ্যাসিস্টের অনন্য কীর্তিও গড়েন।
৩৬ মিনিটে ওইয়ারসাবালের একটি শট পোস্টে লেগে গিয়ে তার হ্যাটট্রিক হওয়া অচিরাত্থ; যদি তা গোল হয়ে যেত, তবে প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিক হতো নৈসর্গিক এই ফরোয়ার্ডের।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরুতেই কৌশলগত পরিবর্তন আনে স্প্যানিশ কোচ: লামিনে ইয়ামাল ও ওইয়ারসাবালকে বিশ্রামে নিয়ে ফেরান ফেরান তোরেস ও ইয়েরেমি পিনোকে নামানো হয়। তবু স্পেনের আক্রমণের তীব্রতা কমেনি। ৪৯ মিনিটে মার্ক কুকুরেয়ার অসাধারণ ভলি সৌদি গোলরক্ষকের শরীরে লেগে পরে, তারপর ডিফেন্ডার হাসান আল-তামবাক্তির শরীর স্পর্শ করলে বল জালে ঢুকে যায় — আত্মঘাতী গোলের ফলে ব্যবধান ৪-০ হয়ে যায়।
বড় ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও স্পেন ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখে। রদ্রি, পেদ্রি ও দানি অলমোরের ত্রয়ী মাঝমাঠ দখলে রেখেছিল; পুরো ম্যাচজুড়ে সৌদি আরবকে ছায়ার পেছনে ছুটতে বাধ্য করেছিল তারা। নিকো উইলিয়ামস মাঠে নামার পরে সৌদি রক্ষণরেখা আরও গভীরভাবে ফিরে গিয়েছিল। ডিফেন্সে পাউ কুবারসির স্থিরতা এবং শীতল মাথা উনাই সিমনের কাজকে অনেক সহজ করে দেয় — ম্যাচের ৮০ মিনিটে আবদুল্লাহ আল-হামদানের একটি শট ছিল স্পেনের জন্য প্রথম প্রকৃত পরীক্ষা, যা সিমন সফলভাবে সামলে নেন।
ম্যাচের যোগ করা সময়ের ৯২ মিনিটে ফাবিয়ান রুইসের পাস থেকে ফেরান তোরেসের নিখুঁত ট্যাপ-ইন Initially দর্শকরা উদযাপন করলেও ভিএআর দেওয়ালে গোলটি তদারকির পর তিন মিনিট পর অফসাইডের কারণে বাতিল করা হয়। তৎপর্যপূর্ণ ভিএআর রিভিউয়ের পর স্পেনের জয় থেমে যায় ৪-০ তেই।
শেষাথেকে স্পেন আত্মবিশ্বাসীভাবে উঠে দাঁড়িয়েছে; দলের গতিশীলতা, তরুণদের উন্মেষ ও অভিজ্ঞদের সামঞ্জস্য একসাথে মিলিয়ে তারা আগামীর ম্যাচগুলোতেও খালি আতঙ্কই সৃষ্টি করবে বলে মনে হচ্ছে।