অপেক্ষার পালা শেষ। আগামীকাল বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ব্রাজিল মরক্কোর সঙ্গে মাঠে নামে। ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করবে টি স্পোর্টস ও বিটিভি।
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ যাত্রা মসৃণ ছিল না—অন্তত কোচিং ও দলগত স্থিতিশীলতার দিক থেকে। তিন কোচেরও অধীনে ফাঁকফোকর ছিল, কিন্তু কার্লো আনচেলত্তির আগমনে সমীকরণ বদলে গেছে। তবু সেলেসাওরা এবারে সবার রুমান্দারি শীর্ষ ফেভারিট নয়, যা চাপ কিছুটা কমিয়েছে। গত দুই টুর্নামেন্টে বেলজিয়াম ও ক্রোয়েশিয়ার কাছে কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায়, এবার তারা ২৪ বছর পর আবার ফাইনালে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আছে।
তৈরির ম্যাচগুলোতে ব্রাজিল প্যানামা ও মিসরকে হারিয়েছে; এই প্রস্তুতিতে কোচিং স্টাফরা বিভিন্ন ফরমেশন ও খেলোয়াড় কম্বিনেশন পরখ করেছেন। তবুও মূল একাদশ নিয়ে এখনো সংশয় রয়ে গেছে।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগ নেইমারের অনুপস্থিতি। তার সঙ্গে ফুলব্যাক ওয়েসলির ইনজুরি দলকে ভাবাচ্ছে; ওয়েসলি ছাড়া ডানপ্রান্তে জায়গা পেতে দানিলো ও ইবানেজের লড়াই হবে। ধারণা করা হচ্ছে ফ্লামেঙ্গো অধিনায়ক দানিলো শুরুতেই পাওয়া সুযোগ পাবেন।
চাররেখা রক্ষণভিত্তিক শিবির লক্ষ্য রেখে আনচেলত্তি ৪-৪-২ ফরমেশনে বিশ্বাসী। এই ব্যবস্থায় লুকাস পাকেতা—মধ্যমাঠে ভাড়া হয়ে ডানপাশে নেমে খেললে এবং ম্যাথিউস কুনহা বাম জায়গায় নামলে ভিনি ও রাফিনহার উপরিশেষ আক্রমণী স্বাধীনতা বাড়ে। সেন্টার মিডফিল্ডে কাসেমিরো ও ব্রুনো গুইমারায়েসের জুটি বাধ্যতামূলক বলে দেখা হচ্ছে।
রক্ষণে মারকুইনোস ও গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েসকে কেন্দ্রীয় জুটি হিসেবে দেখা যেতে পারে, বাম পাশে অ্যালেক্স সান্দ্রো। গোলপোস্টে আলিসন থাকবেন বলেই ধারণা। আক্রমণে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রাফিনহা দুজনেই দ্রুততা ও কৌশল দিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণের ভিত্তি নাড়ার চেষ্টা করবেন, এবং সমর্থন দেবেন পাকেতা ও কুনহা।
সম্ভাব্য একাদশ (প্রস্তাবিত): আলিসন; দানিলো, মারকুইনোস, গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস, অ্যালেক্স সান্দ্রো; কাসেমিরো, ব্রুনো গুইমারায়েস; লুকাস পাকেতা, ম্যাথিউস কুনহা, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনহা।
শেষ পর্যন্ত আনচেলত্তির চতুর কৌশল ও নামিত একাদশের ভারসাম্যই নির্ধারণ করবে ব্রাজিল কতটা আক্রমণাত্মক কিংবা রক্ষণভাগে কতটা স্থির থাকবে। নেইমারের অনুপস্থিতি এবং ফুলব্যাকের ইনজুরি—এই দুটিই হবে ম্যাচের মূল চ্যালেঞ্জ; এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই রিও-জন্মীদের সামনে শুভ সংবাদ বিরাজ করবে।