1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
ওমরাহ করতে যাচ্ছিলো; প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের মা-ছেলে-মেয়ে নিহত সংবাদিকতা নির্ধারণে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন কে সাংবাদিক, কে নয় তা নির্ধারণে স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী দু’এক দিনের মধ্যে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বগুড়ায় পূর্ব শত্রুতায় সাবেক ছাত্রদল নেতা সাগরকে কুপিয়ে হত্যা ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর সাগর-রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন ১২৮ বার পেছালো সাতক্ষীরা-৪ এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে চালকের ওপর হত্যাচেষ্টার মামলা সাগর–রুনি হত্যা: তদন্ত প্রতিবেদন জমা ১২৮ বার পেছাল দল থেকে বহিষ্কার হলে এমপি নজরুলের আসন শূন্য হবে: ইসি

সাড়ে সাত কিলোমিটার লম্বা জার্মান পতাকা দিয়ে ভালোবাসা জানালেন মাগুরার আমজাদ হোসেন

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬

ফিফা বিশ্বকাপের উন্মাদনা দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে। আর্জেন্টিনার বিশাল পতাকা র‌্যালি কিংবা ব্রাজিলীয় সমর্থকদের হলুদ-সবুজ শোডাউনের মধ্যে জার্মান সমর্থকরাও পিছিয়ে থাকতে চাননি। মাগুরার আমজাদ হোসেন সেই ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি হিসেবে তুলে ধরেছেন সাড়ে সাত কিলোমিটার লম্বা জার্মান পতাকা।

মাগুরা সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে বুধবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদর্শিত হয় এই বিশাল পতাকা। তিনি জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে তা ১০ কিলোমিটারে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ঘোড়ামারা গ্রামের ৭০ বছর বয়সী আমজাদ হোসেন দীর্ঘ সময় ধরে জার্মানির প্রতি গভীর ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা দেখিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, অনেক বছর আগে জার্মানির তৈরি ওষুধ খেয়ে একটি জটিল রোগ থেকে সুস্থতা ফিরে আসে; সেই অভিজ্ঞতা থেকেই দেশটির প্রতি তার টান। এরপরই ২০০৬ সালে জার্মানি যখন বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল, তখন সে দেশের প্রতি একটি অনন্য উপহার হিসেবে পতাকা 만드는 উদ্যোগ নেন। প্রথমবার তিনি ৩৫০ গজ লম্বা পতাকা বানান।

তারপর থেকে প্রতিটি আসরে নিজের সঞ্চয় ও ব্যয়ের মধ্যেই পতাকার দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে চলেছেন তিনি। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপের সময় প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ করে এবং নিজের ১০ শতক জমি বিক্রি করে তিনি পতাকাটি আরও বড় করেছেন। এবার পতাকার দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে সাড়ে সাত কিলোমিটারে।

আমজাদ বলেন, ‘‘এগুলো সবই ভালোবাসা থেকেই করা কাজ।’’ তিনি আরও জানান, এবারের তৈরি পতাকাটি জার্মান দূতাবাসের মাধ্যমে জার্মানির কোনো জাদুঘরে সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, এটি দুই দেশের বন্ধুত্ব আর তার দীর্ঘদিনের ভালোবাসার এক অনন্য স্মারক হয়ে থাকবে।

এই উদ্যোগ আগে থেকেই জার্মান দূতাবাসের নজরে পড়েছে। ২০১৪ সালে তৎকালীন জার্মান রাষ্ট্রদূত মাগুরায় এসে তার পতাকা উদ্বোধন করেছিলেন এবং দৌতাবাসের পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল। সেই সঙ্গে তিনি জার্মান ফুটবল ফ্যান ক্লাবের আজীবন সদস্যপদও পান। ২০১৮ সালে আবারও দূতাবাসের কর্মকর্তারা তার প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন। এবার অনুষ্ঠানটি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে সম্পন্ন হলো।

নিশ্চিন্তপুর গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, আমজাদের এমন একনিষ্ঠ ভালোবাসার কারণে তাদের প্রত্যন্ত গ্রামটি সারা দেশে পরিচিতি পেয়েছে। তাদের মতে, কোনো দেশের কিংবা দলের প্রতি এমন আগ্রহ ও প্রেম বিরলই বলা চলে।

কয়েক সন্তান-সংবলিত পরিবার থেকেই উঠে আসা এই প্রচেষ্টা, কেবল ফুটবল প্রেম বা জাতীয় গুরুত্ব নয়—এটি ব্যক্তিগত কৃতজ্ঞতা, আন্তরিক ভালোবাসা ও দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্কের একটি জীবন্ত উদাহরণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo