আগে থেকেই উচ্চ টিকিট মূল্য, যাতায়াত ও আবাসন নিয়ে সমালোচনার মুখে থাকা ফিফাকে এবার পানির বোতল নিয়েও ব্যবসায়িক মনোভাব নিয়ে আক্রমণ চলছে। বিশ্বকাপের কিছু ভেন্যুতে দর্শকদের কাছে পানির বোতল নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করায় ব্যাপক প্রতিবাদ ওঠে, সেই চাপের মুখে ফিফা আবার নীতিতে পরিবর্তন এনেছে।
শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ফিফা জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬–এর ম্যাচে দর্শকরা একটি নরম প্লাস্টিকের বোতল—যার ধারণক্ষমতা ২০ আউন্স (৫৯০ মিলিলিটার) এবং নির্ধারিত কারখানায় সিল করা ও একবার ব্যবহারযোগ্য—সঙ্গে আনতে পারবেন।
এর আগে নিরাপত্তা কারণে ফিফা জানিয়েছিল যে ১৬টি ভেন্যুতেই পুনঃব্যবহারযোগ্য শক্ত আবরণযুক্ত পানির বোতল স্টেডিয়ামে আনার অনুমতি দেওয়া হবে না। ওই সিদ্ধান্তটিও খেলোয়াড়দের দিকে বোতল ছোড়ার মতো ঘটনা রোধে নেওয়া হয়েছে বলে বলা হয়েছিল। তবে পুনরায় জানানো হয়েছে যে কঠোর বিশুদ্ধকরণ ও একবার ব্যবহারযোগ্যতার শর্ত পূরণকারী নরম প্লাস্টিকের বোতল অনুমোদিত।
ফিফার এই নীতিবদলের পেছনে সমর্থক গোষ্ঠী, রাজনৈতিক নেতাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া কাজ করেছে। বহু সমর্থক এটিকে কেবল আর্থিক লাভের চেষ্টা বলেই অভিহিত করেছেন। ইংল্যান্ডভিত্তিক সমর্থকদের সংগঠন ফ্রি লায়ন্স এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘স্বাভাবিকভাবেই সমর্থকদের প্রথম ধারণা হচ্ছে, এটি অর্থ উপার্জনের আরেকটি কৌশল মাত্র।’
বলা হয়, বিশ্বকাপ চলাকালে স্টেডিয়ামগুলোতে বিক্রি হওয়া পানি, কোমল পানীয় ও জুস দীর্ঘদিনের ফিফা স্পন্সর কোকা-কোলা একচেটিয়াভাবে সরবরাহ করবে—এটিও সমালোচনার এক প্রধান কারণ। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও ফিফার আগের সিদ্ধান্তকে ‘ভুল’ বলে বলেছেন এবং বলেছেন, ‘এটি অর্থ উপার্জনের ব্যাপার।’
টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চোউ বলেন, ‘এটা নিছক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একটা কৌশল। যখন আপনি সঙ্গে করে পানি নিয়ে যেতে পারেন, তখন আলাদা বোতল কেনার কী দরকার? এতে খরচও কম হয় এবং এটি পরিবেশের জন্যও ভালো।’ নিউইয়র্ক সিটির জোহরান মামদানি জানিয়েছেন, পুনঃব্যবহারযোগ্য পানির বোতল নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত উদ্বেগজনক, কারণ উচ্চ তাপমাত্রায় দর্শকরাও খেলোয়াড়দের মতো বিভিন্ন ঝুঁকির মুখোমুখি হতে পারেন।
ফিফার এই সিদ্ধান্ত- পরিবর্তনটি এমন সময়ে এসেছে যখন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার বেশিরভাগ আয়োজনস্থলে বিশ্বকাপ চলাকালীন উচ্চ তাপমাত্রার (প্রায় ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি) পূর্বাভাস রয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, ওই পরিস্থিতিতে পর্যাপ্ত পানির সরবরাহ ও সহজ গতিশীলতা নিশ্চিত করা উচিত—কোনো অতিরিক্ত প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা নয়।
উল্লেখ্য, এবারের বিশ্বকাপ ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হবে এবং মোট ১০৪টি ম্যাচের আয়োজন বিভিন্ন শহরের ১৬টি ভেন্যুতেই হবে। ফিফার নতুন নির্দেশিকা দর্শক সুবিধা, নিরাপত্তা ও পরিবেশগত দিকগুলো বিবেচনায় কীভাবে প্রয়োগ হবে—তাই এখন দেখার বিষয়।