চুরান্ত নাটকীয়তায় টাইব্রেকারে আর্সেনালের স্বপ্ন ভেঙে ফেলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়ে উঠলো পিএর সি জি (পিএসজি)। অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত ১-১ ব্যবধানে থাকা ম্যাচে পেনাল্টি শুটআউটে ৪-৩ গোলে শিরোপা জিতে ইউরোপের শীর্ষ মাঠেই নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখলো ফরাসি দলটি।
ফাইনালের শুরুতেই আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়ে মাঠে নেমেছিল আর্সেনাল। ম্যাচের প্রথমার্ধে একটি ক্লিয়ার করার চেষ্টার পর উইঙ্গার লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের শট প্রতিরোধ হয়, খেলার ধারাবাহিকতায় বল পড়ে কাই হাভার্টজের সামনে। মিডফিল্ড থেকে প্রায় একাই দৌড়ে এসে হাভার্টজ একটি দুরন্ত শটে বল জালের উপরিভাগে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন।
দ্বিতীয়ার্ধে পিএসজি চাপ বাড়ায় এবং প্রায় এক ঘণ্টা রক্ষা করা আর্সেনালের ডিফেন্স ভেঙে পড়লে ম্যাচের গতিপথ বদলে যায়। ক্রিসথিয়ান মস্কেরা পেনাল্টি বক্সে খভিচা কভারাতসখেলিয়াকে ফাউল করলে ভিএআর চেকের পর পেনাল্টি ঘোষিত হয়। উসমান দেম্বেলে সেই দায়িত্ব নিয়ে ডেভিড রায়াকে ভুল পথে পাঠিয়ে বল জালের মধ্যে জড়ান এবং ম্যাচ সমতা আনে।
অতিরিক্ত সময় গোল না হওয়ায় টাইব্রেকারে গড়ায় ম্যাচ। পরে উত্তেজনাপূর্ণ পেনাল্টি শুটআউটে গন্সালো রামোস ও গিওকেরেস প্রথম দুটো শট সফল করে পিএসজিকে এগিয়ে নেন। আর্সেনালের এবেরেচি এজের শট গোলপোস্টের বাইরে চলে গেলে সেটি বড় ধাক্কা হয়ে আবির্ভূত হয়। পিএসজির মেন্দেসের শট ডেভিড রায়া রুখে দিয়ে আর্সেনালকে আশা রাখায় ফিরিয়ে আনেন, কিন্তু পরের ধাপগুলোতে ভাগ্যের সহায়তা মেলেনি আর্সেনালের।
ডেকলান রাইস এবং গাব্রিয়েল মার্তিনেলিও তাদের শট লক্ষ্যভেদ করলে আর্সেনালই শ্যুটআউটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জারি রাখে। তবে পিএসজির হাকিমি ও লুকাস বেরালদির সঠিক শটে দলকে ফিরিয়ে আনে। শেষ দিকে মাগালহায়েসের শট ক্রসবারে লেগে ফিরে গেলে পিএসজি ৪-৩ করে শীর্ষে উঠে যায় এবং চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দে মগ্ন হয়।
পিএসজি এই জয়ের সঙ্গে ২০১৬-১৮ সালের রিয়াল মাদ্রিদের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা ধারাবাহিকভাবে দুটি জিতল—ইতিহাসে নাম লিখিয়ে দিলো তারা। অন্যদিকে আর্সেনালের জন্য হতাশা বড়—২২ বছর পর প্রিমিয়ার লিগ জয়ের পরও এখন ইউরোপীয় মুকুট জেতার আশা আরও বড় সময় অপেক্ষায় পড়ে গেল।
২০ বছর আগে বার্সেলোনার বিপক্ষে হার মেনে নেওয়ার সেই স্মৃতি ফের জীবন্ত হয়ে উঠল আর্সেনালদের জন্য; তৎকালীন ফাইনালের মতোই এবারও তারা শুরুতেই লিড নিয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বড় ট্রফি জেতা আর হল না। ইউরোপিয়ান কাপের দীর্ঘ ইতিহাসে (১৯৫৫ থেকে) পিএসজিকে এখন দ্বিতীয়বার টানা শিরোপা জেতা ক্লাব হিসেবে আলাদা করে দেখা হবে।