আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কয়েকটি বড় নিয়ম বদলের প্রস্তাব এক ধাক্কায় সামনে এসেছে; ওয়ানডে থেকে টেস্ট—প্রতিটি ফরম্যাটে পরিবর্তন আনার কথা ভাবছে আইসিসি। ক্রিকবাজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৩০ মে আহমেদাবাদের বোর্ড সভায় এসব প্রস্তাব অনুমোদিত হলে শিগগিরই কার্যকর হতে পারে।
ওয়ানডেতে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর প্রস্তাবটি হলো ড্রিংকস ব্রেকের সময় হেড কোচকে মাঠে ঢুকতে দেওয়ার নিয়ম। নতুন নিয়ম হলে প্রতিটি ইনিংসের ড্রিংকস ব্রেকেই কোচ খেলোয়াড়দের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে কৌশল বা তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দিতে পারবেন। বর্তমানে কেবল বদলি খেলোয়াড় বা ড্রিংকস বহনকারী স্ট্যাফই মাঠে প্রবেশ করতে পারেন। সাধারণত ওয়ানডে ইনিংসে প্রতি দুই ড্রিংকস ব্রেক থাকে, যা প্রায় এক ঘণ্টা বা ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট অন্তর নেওয়া হয়—আইসিসি মনে করছে এটা ম্যাচের কৌশলগত দিক আরও বাড়াবে। তবে এখনও স্পষ্ট নয় কোচদের মাঠে ঢোকার সময় দলের জার্সি পরতে হবে কি না।
টি-টোয়েন্টিতেও বদল আনার পরিকল্পনা আছে; দুই ইনিংসের মধ্যকার বিরতিটি বর্তমানে ২০ মিনিট, সেটি ১৫ মিনিটে নামানো হতে পারে। আইসিসির যুক্তি—বিরতি কমালে ম্যাচের গতি বাড়বে এবং বিরতি কমে টিভি সম্প্রচারে সুব্যবস্থা হবে।
অবৈধ বোলিং অ্যাকশন শনাক্তে হক-আই (Hawk-Eye) প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে ভাবা হচ্ছে। অন-ফিল্ড আম্পায়ারদের হক-আই ডেটা দেখার অনুমতি দিলে ম্যাচ চলাকালেই সন্দেহজনক বোলিং চাল অনায়াসে নজরে আনা যাবে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
সবচেয়ে আলোচিত প্রস্তাবটি হচ্ছে টেস্টে প্রয়োজনে লাল বলের বদলে পিঙ্ক বল ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া—বিশেষত যখন আবহাওয়া বা আলোজনিত সমস্যা থেকে ডে-নাইট কন্ডিশনে খেলা চালাতে দুই দলের সম্মতি প্রয়োজন হয়। তবে ম্যাচের মাঝপথে লাল থেকে পিঙ্ক বল কিভাবে বদল হবে, সেই প্রক্রিয়া এখনো সম্পূর্ণভাবে চূড়ান্ত হয়নি; আইসিসি অনুমোদন দিলে বিস্তারিত নিয়ম তুলে ধরা হবে।
আইসিসির বোর্ড সভায় এসব প্রস্তাবের fate নির্ধারণ হবে; অনুমোদন পেলে ক্রমশই আন্তর্জাতিক ম্যাচে নতুন নিয়মগুলো দেখা যেতে পারে, আর তা খেলায় কৌশল, তত্ত্বাবধান ও দর্শক আবেগ—সবকিছুই প্রভাবিত করবে।