বলিভিয়ার রাজধানী লা পাজ বাসভবন ঘেরাও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট রুদ্রিগো পাজের পদত্যাগ দাবি করে শুরু হওয়া আন্দোলন এবং পুলিশের দমনকার্যে দিনের পর দিন সংঘর্ষ হচ্ছে; এতে সাধারণ জনজীবন ভাঙাচোরা ওভোগান্তিতে পড়েছে।
সাউন্ড গ্রেনেডের প্রচণ্ড শব্দে কাঁপছে রাস্তাঘাট, কাঁদানে গ্যাসের ধোঁয়ায় ঝাপসা হয়ে আছে শহরের কয়েকটি এলাকা। আন্দোলনকারীরা বলছেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে সরকারের নেতৃত্বে রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থতা দেখা যাচ্ছে—জ্বালানি সংকট, তীব্র মূল্যবৃদ্ধি ও ডলারের ঘাটতি দেশকে অর্থনৈতিক সংকটে ফেলেছে। সোমবার প্রেসিডেন্টের বাসভবন ঘেরাও করার সময় পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে দাঙ্গার রূপ নিয়েছে।
এক আন্দোলনকারী বলেন, ‘প্রেসিডেন্টকে আমরা ক্ষমতায় বসিয়েছি; তিনি রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারছেন না। তার উচিত পদত্যাগ করা; ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা রাস্তা ছাড়ব না।’ আন্দোলনে শ্রমিক, কৃষক ও বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা অংশ নিয়েছেন। খনি শ্রমিকরা বিস্ফোরক ও জ্বালানির সহজলভ্যতা এবং খনি নীতিমালার পরিবর্তনের দাবিও তুলেছেন।
প্রতিবাদ দমন করতে পুলিশের পক্ষ থেকে কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়া হয়েছে এবং ফাঁকা গুলি ছোঁড়ারও সংবাদ রয়েছে। সাড়া জাগানোভাবে আন্দোলনকারীরা পুলিশের দিকে তেড়ে আসা এবং রাস্তার উপর টায়ার জ্বালিয়ে বঙ্গোপসাগর স্লোগান দিতে দেখা গেছে—এর ফলে সারা শহরেই বিশৃঙ্খলা বাড়ছে।
সরকার অভিযোগ করেছে যে সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসের সমর্থকেরা এই আন্দোলনকে অর্থায়ন করছেন। চলমান অস্থিরতার প্রভাবে জ্বালানি, খাদ্য ও জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিবহনে বিঘ্ন দেখা দেয়; ফলে সাধারণ মানুষ দৈনন্দিন জীবনে বড় ধরনের ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছে।
অবস্থা যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও অর্থনীতির মন্দা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে গেছে। সড়ক গতির বাধা, বাজারে পণ্যের অভাব ও প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা নিয়ন্ত্রণ না হলে সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।