থাইল্যান্ড সরকার পর্যটকদের জন্য চলমান ভিসা‑নীতিতে বড় পরিবর্তন এনেছে। দেশের ক্যাবিনেট বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশের নাগরিকদের জন্য আগে থেকে চালু থাকা ঢালাও ভিসা‑মুক্ত প্রবেশ সুবিধা বাতিলের অনুমোদন দিয়েছে।
করোনা‑পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র, ইস্রায়েল, দক্ষিণ আমেরিকার কিছু দেশ ও শেনজেনভুক্ত ২৯টি দেশসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের জন্য ৬০ দিন মেয়াদি ভিসা‑মুক্ত সুবিধা চালু করা হয়েছিল। কিন্তু নতুন সিদ্ধান্তে থাইল্যান্ড আবার স্তরভিত্তিক (টায়ারড) ভিসা ব্যবস্থায় ফিরছে। এখন সর্বোচ্চ ভিসা‑মুক্ত থাকার সময়সীমা ৩০ দিন করা হয়েছে এবং কিছু নির্দিষ্ট দেশের ক্ষেত্রে তা মাত্র ১৫ দিন ধরা হচ্ছে।
থাইল্যান্ড সরকারের মুখপাত্র রাচাদা ধনাদরেক সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে বলেন, বর্তমান নিয়মের সুযোগ নিয়ে অনেকে এর অপব্যবহার করছিল। দীর্ঘ ৬০ দিন মেয়াদি সুবিধার কারণে কিছু আইনি ফাঁকফোকর তৈরি হয়েছে, যার ফলে দেশে অবৈধ ব্যবসা, অনুমোদনহীন বিদেশি কর্মী এবং অনলাইন স্ক্যাম বা প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেয়েছে।
সরকার বলছে, নীতি পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য নিরাপত্তা বর্ধন ও সিস্টেমের অপব্যবহার রোধ করা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেতকি জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপ কোনো বিশেষ দেশের বিরুদ্ধে নেয়া হয়নি, বরং যারা ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার করে আইন এড়াতে চায় তাদের কড়া নজরদারি করা হবে।
সিস্টেমের অপব্যবহার রোধে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সাধারণ ৩০ দিনের মেয়াদের জন্য স্থল সীমান্ত দিয়ে বছরে সর্বোচ্চ দুইবার ভিসা‑মুক্ত প্রবেশের কঠোর বিধান চালু করা হবে। তবে নতুন নিয়ম কবে থেকে বাস্তবায়িত হবে, তা এখনও সরকারীভাবে চূড়ান্ত ভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
নীতিপ্রণেতারা মনে করছেন, প্রকৃত এবং উচ্চমূল্যের পর্যটকদের জন্য ৩০ দিন পর্যাপ্ত সময়। সূত্রে বলা আছে, মাদক পাচার, মানব পাচার এবং অনুমোদনহীন হোটেল বা ভাষা স্কুল পরিচালনার মতো অভিযোগে বেশ কয়েকজন বিদেশি নাগরিককে হাই‑প্রোফাইল গ্রেফতার করার পরই এই নীতি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
থাইল্যান্ডে পর্যটন খাত জিডিপির সর্বাধিক ১০ শতাংশেরও বেশি অংশ দান করে। এমন সংবেদনশীল সময়ে এই পরিবর্তন আনার ফলে অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম প্রান্তিকে মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটকদের সংখ্যা প্রায় ৩০ শতাংশ কমায় দেশের বিদেশি পর্যটক আগমন বার্ষিক ভিত্তিতে ৩.৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তবুও থাই কর্মকর্তারা চলতি বছরে ৩৩.৫ মিলিয়ন (৩ কোটি ৩৫ লাখ) বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের লক্ষ্যমাত্রা বজায় রাখার ব্যাপারে আশাবাদী।
সূত্র: আল‑জাজিরা।