পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয় কেবল র্যাংকিংই বদলে দেয়নি—এটি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের টেবিলেও বড় ধাক্কা দিয়েছে বাংলাদেশের জন্য। দুই ম্যাচের সিরিজে পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করার পর ২০২৫-২৭ চক্রের ডব্লিউটিসি পয়েন্ট টেবিলে বাংলাদেশ উঠে এসেছে পঞ্চম স্থানে, পয়েন্ট শতাংশ (PCT) দাঁড়িয়েছে ৫৮.৩৩। চার খেলায় এই পিসিটি নিয়েই তারা ভারতের (PCT ৪৮.১৫) ওপর থেকে উঠে গেছে।
সিলেটের দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করেন নাজমুল হোসেন শantoর নেতৃত্বে বাংলাদেশ। এর আগে মিরপুরের প্রথম টেস্টে দেশের দল জিতেছিল ১০৪ রানে। সিলেট খেলায় পাকিস্তানকে দেওয়া লক্ষ্য ছিল ৪৩৭ রান; চতুর্থ ইনিংসে লড়াই করেও সফরকারীরা মাত্র ৩৫৮ রানে অলআউট হয়। পঞ্চম দিনের সকালে তারা যোগ করেছিল ৪২ রান, কিন্তু তারপর ১৩ বলের মধ্যে শেষ তিন উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে।
জয়ের নায়ক ছিলেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি ৩৪.২ ওভারে ১২০ রান দিয়ে ৬ উইকেট নেন। শেষ দিনের খেলায় সাজিদ খানকে ফেরিয়ে প্রথমে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তাইজুল; পরে খুররম শাহজাদকে আউট করে নিজের ইনিংসটা শেষ করেন এবং বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন। শরিফুল ইসলাম ফেরান ৯৪ রানের সংগ্রহ করা মোহাম্মদ রিজওয়ানকে—রিজওয়ান ১৬৬ বল মোকাবিলা করে ১০ চারে ৯৪ রান করেন। সাজিদ খানের সঙ্গে তার জুটি এক সময়ে বাংলাদেশকে চাপে ফেলেছিল, কিন্তু তাইজুল সেই জুটিটাই ভেঙে দেন এবং পরের ধাক্কাতেই ম্যাচ বাংলাদেশের দিকে ঝুঁকে যায়।
এই সিরিজ জয়ের ফলে পাকিস্তানের অবস্থাও খারাপ হয়েছে—বাংলাদেশে হারের পর তারা ডাব্লিউটিসি টেবিলে নেমে এসেছে অষ্টম স্থানটায়, পিসিটি মাত্র ৮.৩৩; তাদের নিচে এখন শুধু ওয়েস্ট ইন্ডিজ রয়েছে। টেবিলের শীর্ষে আছে অস্ট্রেলিয়া (PCT ৮৭.৫০), এরপর নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা অবস্থান করছে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের টানা দ্বিতীয় টেস্ট সিরিজ হোয়াইটওয়াশ; ২০২৪ সালেও তারা একইভাবে পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল। নিজের মাটিতে এভাবে শক্তিশালী পারফরম্যান্সে শান্তর দল বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে নিজের অবস্থান অনেকটাই মজবুত করে ফেলেছে—এটা দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে বড় সহায়তা করবে।