দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে কঠিন পরিস্থিতির মাঝেই এক প্রান্ত ধরে লড়াইয়ে রাখলেন লিটন কুমার দাস। পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শুরু থেকেই চাপে থাকা বাংলাদেশ অলআউট হয়ে ২৭৮ রানে থামলে দিনের শেষে পাকিস্তান নির্ভেজাল ২১ রান তুলেছে ছয় ওভারে — ফলে তারা এখনও ২৫৭ রান পিছিয়ে।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠান পাকিস্তান অধিনায়ক শাহন মাসুদ। শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি স্বাগতিকদের। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই মোহাম্মদ আব্বাসের শিকার হয়ে শূন্য রানে ফিরেছেন মাহমুদুল হাসান জয়। পরে অভিষেক টেস্টে নামা তানজিদ হাসান তামিম কিছুটা আত্মবিশ্বাস দেখালেও আব্বাসেরই বলে ২৬ রানে ক্যাচ দিয়ে আউট হন।
মুমিনুল হকও খেলা বড় করতে পারেননি; খুররম শাহজাদের শিকারে ২২ রানে ফিরে যান তিনি। লাঞ্চের সময় তিন উইকেটে ১০১ রানে থাকা বাংলাদেশ বিরতির পর দ্রুত তিনটি উইকেট আরও হারায় — নাজমুল হোসেন শান্ত ২৯, মুশফিকুর রহিম ২৩ এবং মেহেদী হাসান মিরাজ মাত্র ৪ রান করে ফিরে যান।
ইনিংস ১০৬ রানে চার উইকেট হারানোর পরে উইকেটে এসে লিটন ধৈর্য ধরে একপ্রান্ত সাঁধেন। নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট হারার মাঝেও সো হাল ধরেন এবং নিয়ন্ত্রিত আগ্রাসনে গড়ে তোলেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি — ১২৬ রানের ইনিংসে তিনি ১৬ চারে ও ২ ছক্কায় সমাহিত ছিলেন। খুররম শাহজাদকে চার মারতেই তিনি তিন অঙ্কে পৌঁছান। পাকিস্তানের বিপক্ষে এটি তার টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি ও মোট তৃতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি।
লিটনের ইনিংস সংগ্রহে দুটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি ছিল; তাইজুল ইসলামের সঙ্গে সপ্তম উইকেটে ৬০ রান যোগ করেন তিনি, তবে তাইজুল সাজিদ খানের বলে ১৬ রানে বোল্ড হন এবং সপ্তম উইকেট আসে ১৭৬ রানে। এরপর তাসকিন আহমেদ খুব বেশি টিকতে পারেননি—খুররম শাহজাদের বলে স্লিপে সালমান আলি আগার হাতে ক্যাচ দিয়ে তিনি ৭ রানে আউট হন।
নবম উইকেটে শরিফুল ইসলামের সঙ্গে আরও ৬৪ রানের জুটি যোগ করে বাংলাদেশ আড়াই শত ছাড়ায়। শেষ পর্যন্ত হাসান আলীর বলে ডিপ স্কয়ার লেগে পুল করতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন লিটন, এবং বাংলাদেশের ইনিংস ২৭৮ রানে থামে। শরিফুল অপরাজিত ১২ রানে মাঠ ছাড়েন, শেষ ব্যাটসম্যান নাহিদ রানা শূন্য রানে আউট হন।
পাকিস্তানের পক্ষে খুররম শাহজাদ সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন; গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ধারাবাহিক উইকেট নিয়ে তিনি বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহ করতে দেননি। মোহাম্মদ আব্বাসও নতুন বলে সংযমী ও কার্যকর বোলিং করেছেন। তবে দিনের আলোটা ছড়িয়ে রেখেছেন লিটন—প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও দায়বদ্ধ এক ইনিংসে দলের লড়াইকে আগলে রেখেছেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার।
দ্বিতীয় দিন পাকিস্তান শুরু করবে আজান আওয়াইস ও ওপেনিংয়ে প্রোমোশন পাওয়া আব্দুল্লাহ ফজল নিয়ে। আজান এ টেস্টে ২০ বলে ১৩ এবং ফজল ১৬ বলেই ৮ রান করে অপরাজিত আছেন। এই ম্যাচে ইমাম-উল-হককে বাদ দিয়ে বাবর আজম দলে ফিরেছেন, ফলে ওপেনিংয়ে আজানের সঙ্গী হিসেবে মাঠে নামছেন ফজল।