1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ০৬:১৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ
শেখ হেলাল ও স্ত্রীর আয়কর নথি জব্দের আদেশ পুলিশের যৌক্তিক দাবি আর্থিক সক্ষমতার মধ্যেই পূরণ করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনজীবী আলিফ হত্যায় চিন্ময় দাসের জামিন মঞ্জুর হয়নি হাইকোর্ট গৃহকর্তা ফোরকানের নামে হত্যা মামলা, লাশ গোপালগঞ্জে পাঠানো হলো ফতুল্লায় গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে পাঁচজন দগ্ধ নৌ ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় ঘাটতি রয়েছে, তা দূর করতে হবে: নৌমন্ত্রী পাঁচ দিনের দুর্যোগের পূর্বাভাস: ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা পুলিশ সপ্তাহে পদক প্রদান স্থগিত: ১০৯ প্রাথমিক মনোনীত যাচাই-বিচারে যুক্তরাষ্ট্রে নিহত নাহিদা ‘বৃষ্টি’ দাদা-দাদির কবরের পাশে সমাহিত বৃষ্টি হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে: পররাষ্ট্র সচিব

তামিলনাড়ুর নির্বাচনে বিজয়ের নতুন রেকর্ড

  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১০ মে, ২০২৬

নিজের প্রথম নির্বাচনে তাক লাগিয়ে দিলেন জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর। দক্ষিণ ভারতের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে তিনি পরিচিত ছিলেন ‘থালাপতি বিজয়’ নামে। তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে শুধু জয়লাভ করাই নয়, বরং একটি দীর্ঘ ৪৯ বছরের রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছেন তিনি, যা আগে কেউ করতে পারেননি।

ফিল্মের দুন থেকে রাজনীতিতে পা রাখা আর তার পর সফলভাবে নির্বাচন করে মুখ্যমন্ত্রী হওয়া— এর আগে এই ঘটনাটি তামিলনাড়ুর ইতিহাসে কেবলমাত্র একবার ঘটেছিল। ১৯৭৭ সালে তখনকার জনপ্রিয় অভিনেতা এমজি রামাচন্দ্রান নির্বাচনে জিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। তিনি দীর্ঘ দিন সফলভাবে অর্থাৎ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই পদে থাকেন। তার দলের নাম ছিল এআইএডিএমকে।

এরপর, এক সময় তামিল সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়ললিতা মুখ্যমন্ত্রী হন, তবে নিজে কোনো নতুন দল গঠন করেননি। তিনি এমজি রামাচন্দ্রান দলের প্রভাবশালী নেত্রী হয়ে এসেছেন। পরে আরো একজন তিনি ছিলেন, যিনি অভিনেত্রী হয়েও রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হন— জয়ললিতা।

তবে, বছর ঘুরে ফিরে বহু চেষ্টা, বিশাল ভক্তসমর্থক সংস্থা থাকা সত্ত্বেও, কোনোরকমে এই চূড়ান্ত বিজয় অর্জন সম্ভব হয়নি। জয়ললিতা নিজে বড় সিনেমার তারকা হয়েও, নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি না করে, সাবেক নেতা এমজিআর এর দলকে নিজেদের দখলে নিয়ে, জোরদার করে মুখ্যমন্ত্রী হন। আশ্চর্যজনকভাবে, এরপর থেকে কোনো অভিনেতা বা অভিনেত্রী এই সীমা অতিক্রম করতে পারেননি।

এবারের নির্বাচনে, এই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে আবারও ১৯৭৭ সালে এমজি রামাচন্দ্রনের সময়ের দৃশ্যের স্মৃতি জাগিয়ে দিলেন বিজয়। তার দল তামিলাগা ভেট্টরি কোঝাগাম বা টিভিকে এই নির্বাচনে দুর্দান্ত ফলাফল দেখিয়েছে। ২৩৪ আসনের রাজ্য বিধানসভায়, যেখানে কোনও দল বা জোট সরকারের জন্য কমপক্ষে ১১৮ আসনে জয়ী হতে হয়, সেখানে বিজয় নিজে জয়ী হওয়ার পাশাপাশি তার দল ১০৮টি আসনে জয় লাভ করেছে। ২০২৪ সালে সরকার গঠনের জন্য এই ফলাফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য, পার্লামেন্টের বিধি অনুযায়ী এককভাবে সরকার গঠন সম্ভব নয়; তবে পার্টির জোট বা সমর্থন থাকলে তারাও ক্ষমতায় আসতে পারেন। এই ফলাফলের মাধ্যমে নিশ্চিতভাবেই জানা যাচ্ছে, বিজয় তামিলনাড়ুর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন।

বিজয় এই দিক থেকেও ভারতের জনপ্রিয় নেতা এমজি রামাচন্দ্রনের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন। এমজিআর এর নেতৃত্বে যে কৌশল অবলম্বন করা হয়েছিল, বিজয় তা অনুসরণ করেছেন। এমজিআর তার বিশাল ভক্তশ্রেণিকে একদিকে ভোটার অন্যদিকে রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। এই ভক্তকূলই ছিল তার মূল শক্তির উৎস।

বিজয়ও তার ভক্তদের সংগঠিত করতে শুরু করেন ২০০৯ সাল থেকে। তিনি বিভিন্ন গ্রুপের সমন্বয়ে গঠন করেন বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম নামে একটি ঐক্যবন্ধন, যা 정치ভাবেও সক্রিয় হয়। ২০১১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত এই ঐক্যকে সমর্থন দিয়ে এসেছিল এআইএডিএমকে।

তবে, ২০২১ সালে এই সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বিজয়। এরপর নিজের দল গঠন করে, ২০২৪ সালে ‘তামিলাগা ভেট্টরি কোজাগাম’ নামে নতুন রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে আসে। নিজেকে দলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করে, নির্বাচন জিতে তিনি এখন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছেন। এই সাফল্য তার রাজনৈতিক জীবনে নতুন উচ্চতা দিচ্ছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo