নিজের প্রথম নির্বাচনের সেটিই ছিল বিরাট এক সফলতা। দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র তারকা থেকে রাজনীতিতে পা রাখতে গিয়ে জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন। তিনি এখন তামিলনাড়ুর প্রথম অভিনেতা-নেতা, যিনি নিজের প্রথম নির্বাচনে জয় লাভ করে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত হচ্ছেন। এই ঘটনা এখন তামিলনাড়ুর রাজনীতির ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
১৯৭৭ সালে তামিল সিনেমার একজন তারকা অভিনেতা এমজি রামাচন্দ্রান প্রথমবারের মতো নির্বাচনে জিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হন। এরপর থেকে এই চিত্রটি দেখা যায়নি, কারণ অধিকাংশ চলচ্চিত্র তারকা বা অভিনেত্রী রাজনৈতিক সফলতা অর্জন করতে পারেননি। এমজি রামাচন্দ্রান জন্মগতভাবে রাজনীতি শুরু করেননি, তবে তিনি তার দলের মাধ্যমে শক্ত অবস্থান গড়েন। এরপর বেশ কিছু চলচ্চিত্র তারকা নিজেকে রাজনীতির সমর্থকদের জন্য প্রস্তুত করলেও, তারা মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার মতো উচ্চ পর্যায়ে যেতে পারেননি। জয়ললিতা, যারা একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ছিলেন, তিনি একসময় এআইএডিএমকে দলের নেতৃত্ব দিয়ে রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও, তিনি নিজে কোনো নতুন দল তৈরি না করে ঐ দলের মধ্যেই থেকে ক্ষমতা দখল করেছিলেন। তবে তিনিও এরপর আর কখনো এই চূড়ান্ত পদে পৌঁছাতে পারেননি।
বিজয় এখন সেই ঐতিহ্যকে ভেঙে দিয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। ২০২৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি নিজের দল তামিলাগা ভেট্টরি কোজাগাম (টিভিকে) এর প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন। এই নির্বাচনে তিনি নিজে বিজয়ী হয়েছেন, পাশাপাশি তার দল ১০৮টি আসনে জয়লাভ করে বিরাট সাফল্য দেখিয়েছে। তামিলনাড়ু বিধানসভায় মোট ২৩৪ আসন রয়েছে, যেখানে সরকার গঠন করতে হলে কমপক্ষে ১১৯ আসনে জয়প্রাপ্ত হতে হয়। তবে এই ফলাফল খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি স্পষ্ট করে দেয় যে বিজয় তার দলসহ পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পথে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন। পররাষ্ট্রে বিধানসভা সরকার গঠনের জন্য অন্যান্য দল বা জোটের সঙ্গে জোট বেঁধে কাজ করতে হবে। তবে এই ফলাফল নিশ্চিত করে দেয় যে, বিজয় ও তার দল এই পর্যায়ে পৌঁছেছেন।
এটা সম্ভব হয়েছে মূলত এমজি রামাচন্দ্রান রাজনীতির কৌশল অনুসরণ করে। তিনি তার বিশাল ভক্তশ্রেণিকে ভোটার ও রাজনীতির কর্মী হিসাবে গড়ে তুলেছিলেন। বিজয়ও একই পথে হাঁটছেন। ২০০৯ সালে তিনি তার ভক্তদের সংগঠিত করতে শুরু করেন, বিভিন্ন গ্রুপের সমন্বয়ে ‘বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম’ নামে একটি ঐক্যবদ্ধ সংগঠন গড়ে তোলেন। এটি সম্প্রতি একটি রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে কাজ করছে। ২০১১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি এই দলের সমর্থন নিয়েছেন। ২০২১ সালে তিনি এই দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজে একটি স্বতন্ত্র দল গঠন করেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালে নতুন দলের নাম রেখেছেন তামিলাগা ভেট্টরি কোজাগাম, এবং তিনি সেই দলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়ে এখন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের জন্য প্রস্তুত।
এভাবে একদিকে যেমন তিনি দর্শকের বিনোদন দুনিয়া থেকে রাজনীতিতে প্রবেশ করেছেন, অন্যদিকে এমজি রামাচন্দ্রনের মতো কৌশল অবলম্বন করে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করেছেন। এটি তামিলনাড়ুর রাজনীতির এক নতুন অধ্যায়, যেখানে প্রথমবারের মতো একজন চলচ্চিত্র তারকা সরাসরি নির্বাচনে জয় লাভ করে রাজ্যের শীর্ষ পদে উঠছেন।