দক্ষিণ ভারতের দর্শকপ্রিয় তারকা জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর—যাকে দর্শক ‘থালাপতি বিজয়’ নামে চেনে—নিজের প্রথম নির্বাচনে দর্শক এবং রাজনৈতিক মহলে চমক সৃষ্টি করেছেন। তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে বিজয় কেবল ব্যক্তিগতভাবেই জয়ী হননি; বরং তিনি ১৯৭৭ সালে এমজি রামাচন্দ্রানের সৃষ্ট ইতিহাসের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করে দিয়েছেন।
১৯৭৭ সালে তৎকালীন চলচ্চিত্র তারকা এমজি রামাচন্দ্রান নিজের দল এআইএডিএমকে গঠন করে রাজ্যপালকে হারিয়ে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হন এবং ১৯৮৭ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত একই দায়িত্ব পালন করেন। এরপর অভিনেত্রী জয়ার্মা (জয়ললিতা) মুখ্যমন্ত্রীর পদে আসলেও তিনি নিজে কোনো নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেননি; এমজিআরের দলেই উঠে আসতেন। এরপর দীর্ঘদিন কোনো অভিনেতা-অভিনেত্রী নিজের প্রতিষ্ঠিত দল গঠন করে মুখ্যমন্ত্রীতে পৌঁছাননি—এই চিত্র এবার বদলে গেছে বিজয়ের হাতেই।
বিজয়ের রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেট্টরি কোজাগাম (টিভিকে) ২০২৪ সালে আত্মপ্রকাশ করে। এবারের ভোটে টিভিকে ২৩৪ আসনের বিধানসভায় ১০৮টি আসনে জয় লাভ করেছে। আইন অনুযায়ী এককভাবে সরকার গঠন করতে হলে ১১৮টি আসন প্রয়োজন। তাই টিভিকে সরাসরি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি, কিন্তু জোট গঠন করলেই দলের সিংহভাগ কণ্ঠস্বর এবং নেতৃত্বের ভূমিকা টিভিকেই নিতে হবে—যার ফলে বিজয়ের তামিলনাড়ুর পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর সম্ভাবনা কার্যত নিশ্চিত বলে বলা হচ্ছে।
এই সাফল্যের পেছনে বিজয়ের দীর্ঘতর ভূমিকা এবং ভক্তশ্রেণীর সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ২০০৯ সাল থেকেই তিনি ভক্তদের সংগঠিত করতে শুরু করেন এবং বিভিন্ন গ্রুপের সমন্বয়ে ‘বিজয় মাক্কাল ইয়াক্কাম’ গঠন করেন। ২০১১ থেকে ২০২০ পর্যন্ত মাক্কাল ইয়াক্কাম এআইএডিএমকের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছিল, কিন্তু ২০২১ সালে সেই সমর্থন প্রত্যাহার করে নিজস্ব রাজনৈতিক সংগঠন তৈরির পথে হাঁটেন বিজয়।
ফিল্ম জগত থেকে উঠে এসে নিজের ভক্তকুলকে রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করা—এই কৌশলটিই এমজি রামাচন্দ্রানের সময়ে কাজ করেছিল এবং বিজয়ও সেই পথই অনুসরণ করেছেন। টিভিকের দ্রুত ওঠা এবং নির্বাচনী ফলাফল ২০২৪ সালে গঠিত নতুন কোনো দলের জন্য অত্যন্ত নজিরবিহীন বলা চলে।
এখন বিজয় শপথগ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছেন এবং রাজনৈতিক রণনীতির দিক থেকে টিভিকে জোট গঠন করেই সরকার গঠন করবেন—এমনটাই পরিস্থিতি দেখা দিচ্ছে। (সূত্র: এনডিটিভি)