বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে পণ্যমূল্য ব্যাপকভাবে বাড়বে না বলে বলেছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, আমাদের প্রতিদিন যা খাব তা সরাসরি জ্বালানি তেলে তৈরি হয় না; পণ্যের দাম নির্ধারণে উৎপাদন খরচ ও পরিবহন ব্যয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পে জ্বালানির অংশ মোট উৎপাদন খরচের মাত্র ৭–৮ শতাংশ হওয়ায় এই মূল্যবৃদ্ধি পণ্যমূল্যে বড় ধাক্কা দেবে না।
সোমবার সকাল সিলেট নগরের অগ্রগামী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজে মাসব্যাপী হাম-রুবেলা (মিজলস-রুবেলা) টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
জ্বালানি তেলের সাম্প্রতিক মূল্যউৎকোচকে যৌক্তিকতার দিক তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সামগ্রিক ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তেলের দাম কিছুটা বেড়েছে এবং তা প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পেলে ভোক্তা পর্যায়ে মূল্য বৃদ্ধিও স্বাভাবিক। তিনি বলেন, ‘‘পুরো বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বেড়েছে; উন্নত দেশগুলোর ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।’’
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সচেতন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে—এমন আশ্বাসও দেন মন্ত্রী। কৃষকদের জন্য সরকারের ডিজেল ভর্তুকি ছাড়া ভিন্ন ক্ষেত্রেও প্রয়োজনমতো উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে, যাতে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির অনুপযুক্ত প্রভাব বিভিন্ন সেক্টরে না পড়ে।
উক্ত অনুষ্ঠানে তিনি সিলেটের সামাজিক সূচকে উন্নতি না হওয়াকে নির্দেশ করে বলেন, সিলেট এখনও অনেক ক্ষেত্রে অন্য অঞ্চলের তুলনায় পিছিয়ে আছে এবং সরকার আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এসব বৈষম্য কমানোর লক্ষ্যে কাজ করছে।
জনস্বাস্থ্যে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, টিকাদান কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে চললে অচিরেই দেশের নানা অঞ্চলে হাম রোগের প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন সহকারী পরিচালক ডা. নূরে আলম শামীম। বিশেষ অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তা ডা. সুফি মো. খালিদ বিন লুৎফুর, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং ইউনিসেফ সিলেট ফিল্ড অফিসের প্রধান মির্জা ফজলে এলাহী প্রমুখ।