1. [email protected] : Staff Reporter : Staff Reporter
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৬ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ খবরঃ

আশা ভোঁসলে চিরবিদায়, মুম্বাইয়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য

  • আপডেটের সময় : বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬

প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। সোমবার বিকেলে মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্ক শ্মশানে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। শেষকৃত্যে মুখাগ্নি দেন তাঁর ছেলে আনন্দ ভোঁসলে। খবরটি প্রথমটি জানিয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

গতকাল সকাল থেকেই মুম্বাইয়ের লোয়ার পারলের আশার বাসভবন ছিল মানুষের সমাগমে অভিভূত—চাঁদের হাটে পরিণত হয়েছিল পুরো এলাকা। তবে সেখানে উৎসবের কোনো মেজাজ ছিল না, বরং গভীর শোক এবং নীরব শ্রদ্ধার আবহ ছিল। বড় বোন লতা মঙ্গেশকরের কন্যা মীনা খাড়িকর সহ বহু শিল্পী ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব সেখানে হাজির ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা আমির খান, ক্রিকেটার শচীন তেন্ডুলকার, সঙ্গীত পরিচালক এআর রহমান, গায়ক জাভেদ আলি, অভিনেত্রী টাবু, আশা পারেখ, নীল নীতিন মুকেশ ও জ্যাকি শ্রফসহ বিনোদন জগতের বহু প্রভাবশালী মুখ। পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনের বর্ষীয়ান নেতারা ও অন্যান্য ক্ষেত্রের মানুষও শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আসেন।

বাসভবনে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাঁর মরদেহকে শিবাজি পার্ক শ্মশানে নেওয়া হয়। শববাহী গাড়িটি আশার প্রিয় সাদা-হলুদ ফুলে ঝরা ছিল এবং রাস্তার দু’ধারে ভক্ত-অনুরাগীদের অনড় সমবেত হয়; অনেকের কণ্ঠে গান, অনেকের চোখে অশ্রু—তাদের ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার ছায়ায় শেষ বিদায়টা সাদাকালো মিশ্র অনুভূতিতে ভরে উঠে। শ্মশানে উপস্থিত ছিলেন বিনোদন, রাজনীতি ও ক্রীড়া অঙ্গনের বহু মানুষ।

আশা ভোঁসলেকে গত ১১ এপ্রিল অসুস্থ হয়ে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রবিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

আশা ভোঁসলের সংগীতজীবন শুরু হয় ১৯৪৩ সালে এবং ৮ দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি গান করে গেছেন। শুধু হিন্দি নয়—আরও প্রায় ২০টি ভারতীয় ভাষায় এবং কয়েকটি বিদেশি ভাষাতেও তিনি গীতায় শিল্পী হয়েছেন। সংগীতজীবনে তিনি মোট ৯২৫টিরও বেশি সিনেমায় গান গেয়েছেন এবং সাধারণত ধারণা করা হয় তিনি প্রায় ১২ হাজারেরও বেশি গান রেকর্ড করেছেন। ভারত সরকার ২০০৮ সালে তাঁকে পদ্মভূষণ দিয়েছিল। ২০১১ সালে গিনেস বুকে তিনি সর্বাধিক সংখ্যক রেকর্ডকৃত গানের মাধ্যমে স্বীকৃতি পান।

ব্যক্তিগত জীবনে আশা ভোঁসলের প্রথম বিয়ে হয় গণপতরাও ভোঁসলের সঙ্গে—যিনি 당시 লতা মঙ্গেশকরের সেক্রেটারি ছিলেন। বিয়ের সময় তাঁর বয়স ছিল ১৬ এবং গণপতরাওর বয়স ৩১; এই সম্পর্ক ১৯৬০ সালে ভেঙে যায়। পরে ১৯৮০ সালে তিনি গায়ক সৈয়দ মালেক রাহমান, অর্থাৎ আরডি বর্মনের (আর.ডি. বর্মন) সঙ্গে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন; ১৯৯৪ সালে আরডি বর্মন মারা যান।

সুর ও মাধুর্যের একটি অধ্যায় আজ বন্ধ হলেও, আশা ভোঁসলের গাওয়া গানগুলো এখনও বহু প্রজন্মের স্মৃতিকোষে বেঁচে থাকবে—তার কণ্ঠ, তার ছন্দ, তার শিল্পীজীবনের অবদান ভারতের সংগীত ইতিহাসে অনস্বীকার্য।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | সকালেরফেনি.কম
Design & Developed BY HostingNibo