সুরসম্রাজ্ঞী আশা ভোঁসলের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হলে গোটা বলিউড ভেঙে কেঁদে ওঠে। মহা প্রস্থানের দিন রণবীর সিংসহ বহু তারকা সেখানে উপস্থিত থেকে শ্রদ্ধা জানায়। তবু দুই বড় নাম—সালমান খান এবং শাহরুখ খান—শেষ নিঃশ্বাস নিতে উপস্থিত ছিলেন না, যা অনেক অনুরাগী ও সমালোচকের মনে বিস্ময় ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলেছে, শেষকৃত্যের সময় দু’জনই মুম্বাইতেই ছিলেন। তবে নিরাপত্তার দিকটি বিবেচনা করেই তারা পাণ্ডেল বা সমাহিত স্থলে না গিয়ে অনুপস্থিত থেকেছেন। সংবাদ প্রতিবেদনগুলিতে উল্লেখ করা হয়েছে, জনসমাগম ও নিরাপত্তাজটিলতার সুযোগকে সামনে রেখে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সালমান-শাহরুখ—দুটো পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি না দিলেও তারা সামাজিকতন্ত্রে আশার প্রতি শ্রদ্ধা ও শোক জানিয়েছেন। শাহরুখ খান সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, আশা ভোঁসলের চলে যাওয়ায় তিনি গভীরভাবে শোকাহত; তার কণ্ঠ ভারতীয় সিনেমার একটি অবিচ্ছেদ্য স্তম্ভ ছিল। সালমান খানও আশার মৃত্যুকে ভারতীয় সংগীতের কাছে এক অপ্রতুল্য ক্ষতি বলে অভিহিত করেন এবং জানান, তার গান আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।
আশা ভোঁসলে ১২ এপ্রিল মারা যান। মৃত্যুর একদিন আগে, ১১ এপ্রিল তিনি শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিলেন — অভিযোগ ছিল বুকে ব্যথা। চিকিৎসকদের চেষ্টা সত্ত্বেও তিনি আর ফেরেননি।
আশার চলে যাওয়া ভারতীয় সঙ্গীতজগতের এক ক্ষতি; তার কণ্ঠ এবং বৈচিত্র্যময় রেকর্ডিং বহু জাতি, বহু প্রজন্মকে ছুঁয়ে গিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায়—অল্প কিছু অনুরাগীর যা অপছন্দ তৈরি করেছে—বৃহৎ জনসম্মুখে অনুপস্থিতি নিয়ে বিতর্ক হলেও অনেকেই তাদের নিরাপত্তা-তত্ত্বাবধানকে গুরুত্ব দিয়ে এই সিদ্ধান্তকে বোঝার চেষ্টা করছেন।