কনসার্ট কি শুধুই গান-আনন্দ? দিলজিৎ দোসাঞ্জের সাম্প্রতিক ট্যুর দেখিয়ে দিয়েছে, এতে লুকিয়ে থাকতে পারে কোটি কোটি টাকার একটি ব্যাপক অর্থনীতি। মাত্র ১৪টি শো এবং ১৩টি শহরে নিয়েই তার আয় দাঁড়াল প্রায় ৯৪৩ কোটি টাকায় — এই ভ্রমণকে বলা হচ্ছে ডিল-লুমিনাটি ট্যুর, যা লাইভ মিউজিকের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
টিকিট বিক্রি থেকে এসেছে ২২১ কোটি, স্পনসরশিপে পাওয়া হয়েছে ৩৩ কোটি, আর সরকারের কোষাগারে জমা পড়েছে ১১৪ কোটি টাকার বেশি — প্রতিটি শো যেন নিজের মধ্যে একটি অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় চমকটা এসেছে পরোক্ষ আয়ে: ভক্তদের ভ্রমণ, হোটেলবাসা, খাবার ও কেনাকাটাসহ মিলিয়ে তৈরি হয়েছে প্রায় ৫৫৩ কোটি টাকার অর্থনৈতিক প্রভাব। রিপোর্ট অনুযায়ী, দর্শকদের প্রায় ৩৮ শতাংশ অন্য শহর থেকে এসে কয়েক দিন অতিরিক্ত থেকেছেন, ফলে কনসার্টগুলো স্থানীয় পর্যটন ও ব্যবসাকে নতুন গতি দিয়েছে।
দর্শক উপস্থিতিও ছিল নজর কাড়ার মতো — ১৪টি শোতে মোট حضور ছিল ৩ লাখ ২০ হাজারের ওপরে, আর দিল্লির এক শোতেই ছিল প্রায় ৫৫ হাজার দর্শক; সব শোই হাউসফুল। বিশ্বমঞ্চে বড় তারকার সঙ্গে তুলনা করলে এখনও কিছুতে পিছিয়ে থাকতে পারেন, তবু এই সাফল্য দিলজিৎকে বৈশ্বিক ট্যুরিং মানচিত্রে দৃঢ়ভাবে স্থাপন করেছে।
শুধু বিনোদন নয় — এই ট্যুর তৈরি করেছে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগও। প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার কর্মঘণ্টা সৃষ্টির কথা বলা হচ্ছে; লজিস্টিকস, নিরাপত্তা, প্রোডাকশন থেকে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট পর্যন্ত বহু ক্ষেত্রই কনসার্ট জগত থেকে সরাসরি উপকৃত হয়েছে। এর মানে স্পষ্ট: এখন একটি কনসার্ট কেবল গান-সংগীতের ব্যাপার নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম।