সাতক্ষীরায় নিজ ঘরে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস করা তরুণ চিকিৎসক সঞ্জীব দত্ত (২৭)। বুধবার (১৮ মার্চ) ভোররাতে শহরের নারিকেলতলা এলাকার কাঠিয়া কর্মকার পাড়ায় আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে।
পরিবার ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সঞ্জীব সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন। তিনি বিদেশে এফসিপিএসসহ উচ্চতর চিকিৎসা পড়াশোনা করতে গিয়েছিলেন। বাড়ি ফেরার পর থেকেই পড়ালেখার চাপসহ নানা কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন বলে পরিবারের কাছ থেকে জানা গেছে।
কাঠিয়া কর্মকারপাড়া সার্বজনীন পূজা মন্দির সমিতির সভাপতি গৌর দত্ত বলেন, ‘‘সঞ্জীব খুব মেধাবী ছাত্র ছিলেন। কিন্তু চিকিৎসক হওয়া তার নিজ ইচ্ছা ছিল না; বাবা–মায়ের অনুরোধে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন এবং সফলভাবে এমবিবিএস শেষ করেন। বিদেশে উচ্চতর পড়াশোনা শুরু করার পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে অস্থিতিশীল ছিলেন।’’
সঞ্জীবের বন্ধু অমিত জানান, ‘‘সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০১৫ সালের এসএসসি ব্যাচে আমরা একসঙ্গে পড়েছিলাম। সঞ্জীব সবসময় সরল ও আদর্য ছিল—স্কুলজীবন থেকেই সবার প্রিয় ছিল। তার আকস্মিক মৃত্যু আমাদের সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।’’
পিতা তপন কুমার দত্ত জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে সঞ্জীব ঘরে ঘুমাতে যান। বুধবার সকালে তার স্ত্রী কাঞ্চন দত্ত ঘরের দরজায় ডাকাডাকি করলে কোনো সাড়া পেলেন না; পরে দরজার ফাঁক দিয়ে চেয়ে দেখতে পান ছেলে শয়নকক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাঃ মাসুদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘‘পরিবার কোনো অভিযোগ না করায় ময়নাতদন্ত ছাড়া মরদেহ দাহের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’’
সঞ্জীবের অকাল প্রয়াণে পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যে শোকের ছায়া বিরাজ করছে। আশেপাশের মানুষরা বলছেন, মানসিক সঙ্কট ও পড়াশোনার চাপ তার আত্মহত্যার কারণ হতে পারে। স্থানীয়রা ভবিষ্যতে মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা ও সহানুভূতিশীল পরিবেশ গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছেন।