সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বিছট গ্রামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) ভোর রাতে পাউবো বিভাগ-২ এর আওতাধীন ৭/২ পোল্ডারের বিছট গ্রামের জহুর আলী মোড়লের বাড়ির সামনে স্থাপিত বেড়িবাঁধের বড় অংশ ভেঙে খোলপেটুয়া নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয়রা বলছেন, জরুরি মেরামত না হলে পুরো বাঁধ নদীতে ঢলে যাবে এবং আনুলিয়া ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গ্রামবাসী জানান, গতবছর ঈদের দিন (৩১ মার্চ) সকালে একই এলাকায় প্রায় দেড়শ ফিটাংশ বেড়িবাঁধ হঠাৎ ভেঙে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। তখন উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে আব্দুর রহিম সরদারের ঘেরের পাশ থেকে নদী ভাঙার ফলে বিছট, বল্লভপুর, আনুলিয়া, নয়াখালী চেঁচুয়া ও কাকবসিয়া গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়; নয়া খালী গ্রাম সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়েছিল। বহু মাছের ঘের ও বোরো ধানের ক্ষতি হয় এবং শতাধিক কাঁচা বাড়ি ভেঙে পড়ে।
তৎকালীন ক্ষতির পর গ্রামবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে ভাঙন পয়েন্টে একটি বিকল্প রিংবাঁধ নির্মাণের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু দুপুরের জোয়ারে তা ভেঙে গিয়ে নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এবার ঈদের আগের মুহূর্তে পুনরায় ভাঙনের খবর পেয়ে মানুষদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বহু পরিবার জানাচ্ছে, তারা আগের রেশ কাটিয়ে উঠতে পারেনি—আরেকবার বাঁধ ভেঙে গেলে সবার সর্বস্ব হারানোর শঙ্কা রয়েছে।
বিছট নিউ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক মো. আবু দাউদ বলেন, ‘‘বুধবার সকালে গিয়ে দেখেছি জহুর আলী মোড়লের বাড়ির সামনে বেড়িবাঁধের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের অধিক অংশ নদীগর্ভে চলে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে ভোররাতের জোয়ারে এটি ভেঙে গেছে। আপাতত আমরা মাটিসমেত ভাঙন পয়েন্টে ভর্তি করে দুপুরের জোয়ার ঠেকানোর চেষ্টা করছি। বিষয়টি উপজেলা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’’
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে এখানে বেড়িবাঁধ সংস্কারের জন্য তিনটি প্যাকেজ বরাদ্দ থাকলেও কোনো ঠিকাদার কাজ শেষ করেনি। বালু ভর্তি জিও ব্যাগগুলো এক জায়গায় পড়ে আছে; খেয়াল করতে দেখলে দেখা যায় কয়েকটি জিও ব্যাগ নদীর চরের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সেসব ব্যাগ ভরায় রাখলেও ভাঙন পয়েন্টে সেগুলো ডাম্পিং করা হয়নি, ফলে ভাঙন বাধা না পেয়ে অব্যাহত রয়েছে। গ্রামবাসীরা জরুরি মেরামতের দাবি জানিয়েছেন।
সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুর রহমান তাযকিয়া জানান, ভাঙনের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জিও ব্যাগ ও জিও রোল পাঠানো হয়েছে এবং সেখানে কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আপাতত পানি ঢোকা বন্ধে কাজ করা হচ্ছে। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ভাঙন মেরামতে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু হবে।
গ্রামবাসীরা বলছেন, বর্ষা ও জোয়ারের প্রয়োজনে স্থায়ী ও শক্তিশালী সংস্কারের ব্যবস্থা না হলে প্রতিনিয়ত এই ঘাটতির শিকার হতে হবে। তারা দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তত্পরতা দাবি করছেন।